রুটি আর ডিম দিয়ে সকালবেলার নাস্তা করার জন্য মায়ের কাছে আবদার করেছিলো হাফসা। মেয়ের আবদার মেটানোর জন্য বাড়ির পাশের দোকান থেকে ডিম আর রুটি কিনতে যান মা রিনা বেগম। রুটি-ডিম কিনে ১৫ মিনিটের মাথায় ফিরে এসে দেখেন তার মেয়ে হাফসা তার পড়ার পক্ষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলছে মেয়ে। এই দৃশ্য দেখে মায়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আড়া থেকে নামানোর আগেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে স্কুলছাত্রী হাফসা (১৫)।
আজ বুধবার (৩১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা খোন্তকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম গোলবুনিয়া গ্রামের ঘটে মর্মান্তিক এই ঘটনা। ওই গ্রামের আ. জলিল হাওলাদারের তিন মেয়ের মধ্যে সবার বড় হাফসা। উপজেলার আমড়াগাছিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখায় দশম শ্রেণিতে পড়ত সে।
খবর পেয়ে শরণখোলা থানা পুলিশ সকাল ১১টার দিকে ওই বাড়ি থেকে মেয়েটির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। ওই মেয়ের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও জব্দ করেছে পুলিশ। প্রেমঘটিত কোনো কারণে আত্মহত্যা করতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
মেয়ের মা রিনা বেগম আহাজারি করতে করতে বলেন, মেয়ে কৌশল করে আমাকে ডিম-রুটি আনতে বাইরে পাঠিয়েছে বুঝতে পারলে আমি যেতাম না। ও এই কাণ্ড ঘটাতেই ডিম-রুটি খাওয়ার বাহানা করেছে।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান বলেন, মেয়েটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। জব্দকৃত মোবাইলের সূত্র ধরে মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
বার্তাবাজার/ভি.এস