১০০ বছর মেয়াদের সেতুর বয়স ১৮৬, ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা

৮৬ আগে মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে রংপুরের তিস্তা রেল সেতুর। তবুও ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পার হচ্ছে এই সেতুর ওপর দিয়ে ১৬টি ট্রেন। প্রতিবারই ভয়ংকরভাবে কেঁপে ওঠে সেতুটি।

জানা যায়, ১৮৩৪ সালে ২ হাজার ১১০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি তৈরী করে বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। লালমনিরহাটের তিস্তা এলাকার সাথে এই সেতু দিয়েই যুক্ত হয়েছে রংপুরের কাউনিয়া এলাকা। ১০০ বছর মেয়াদ ধরে সেতুটি তৈরি করা হলেও পার হয়েছে ১৮৬ বছর। এখন জোড়াতালি দিয়ে সেতুটি খাড়া রেখে পার করা হচ্ছে ট্রেন।

১৯৭১ সালের মহা মুক্তিযুদ্ধে এই সেতুর রকটি গার্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরের বছর দেশ স্বাধীন হলে পুণরায় চালু করা হয় সেতুটি। ১৯৭৭ সালে সওজ ও রেল বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এটায় মিটারগেজ লাইনের পাশে ২৬০টি স্টিলের টাইফ প্লেট ও কাঠের পাঠাতন বসানো হয়। এখন নষ্ট হয়ে গেছে বেশ কিছু স্লিপার। প্লেটও নাটবল্টুও গেছে খুলে। যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, তিস্তা রেলসেতুটির ওপর ট্রেন উঠলে সেতুটি কেঁপে উঠে। সব সময় আতঙ্কে থাকি। রেলসেতুতে ট্রেন উঠলে বুকটা কেঁপে উঠে। দীর্ঘদিন ধরে জোরাতালী দিয়ে সেতুটিতে ট্রেন চলাচল করছে।

লালমনিরহাট রেলবিভাগ জানায়, তিস্তা নদীর ওপর আরেকটি রেলসেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। নতুন সেতু নির্মাণ করার কথা রয়েছে। পুরাতন সেতুর পশ্চিম পাশেই আরেকটি ডুয়েল গেজ সেতু নির্মাণে খুব দ্রুত কার্যক্রম হাতে নেবে সরকার।

তবে মেয়াদ শেষ হলেও সেতুটি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ হয়নি বলে দাবি করছেন বিভাগীয় রেলওয়ের লালমনিরহাট ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, লালমনিরহাট রেলওয়ে রংপুর বিভাগের আওতাধীন ছোট-বড় অনেক সেতু মেরামত কাজ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কোনো সেতু নেই। তিস্তা রেলসেতু মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় সেতুর পশ্চিম পাশে সরকারের নতুন করে আরো একটি ডাবল বোর্ড গেজ সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর