নারায়ণগঞ্জে হেফাজতের হরতালে ৭ মামলা, আসামি সাড়ে ৩ হাজার

নারায়ণগঞ্জে হেফাজত ইসলামের সকাল-সন্ধ্যা হরতালের সংঘর্ষের ঘটনায় সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতে পৃথকভাবে এসব মামলা দায়ের করা হয় বলে মঙ্গলবার দুপুরে নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপায় জায়েদুল আলম।

এর মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে ৫টি ও র্যাগব বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। অপর মামলাটি রুজু করা হয়েছে রূপগঞ্জ থানায়। এ সময় মামলার প্রতিটিতে ২০ থেকে ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে র্যাকবের মামলায় কারও নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাত ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, রোববারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা, সরকারি কাজে বাধা, গাড়ি ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ, সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি, সরকারি সম্পদের ক্ষতি ইত্যাদি বিভিন্ন অভিযোগে পুলিশের পক্ষ থেকে ৫টি ও র্যােবের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতেই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

মামলায় হেফাজতের ব্যানারে নাশকতাকারীদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের কাউকে এখনো গ্রেফতার করা না হলেও গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে বলে ওসি জানিয়েছেন।

তবে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মামলায় হেফাজতের নেতা ছাড়াও বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মামুন মাহমুদসহ বিএনপি-জামায়াতের বেশ কয়েকজনের নাম আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে জেলা পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় আমরা বিভিন্ন স্পট থেকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। বিশেষ করে রোববার বিকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসার পর যানবাহন চলাচল শুরু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইলে আকস্মিক ফিল্মি কায়দায় দুর্বৃত্তরা বেশ কয়েকটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। শুধু হেফাজতই নয়, এই তাণ্ডবের নেপথ্যে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে অন্য কোনো গোষ্ঠী জড়িত বলেও আমরা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি। তাদেরও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

এ ঘটনায় আন্দোলনকারীদের নিবৃত্ত করতে পুলিশ শটগানের রাবার বুলেট ও চাইনিজ রাইফেলের ৪ হাজার রাউন্ড গুলি ও ১৫০ রাউন্ড টিয়ারশেল ছুড়েছে বলে জেলা পুলিশ জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানিয়েছেন, মামলা আদালতে যাওয়ার আগপর্যন্ত আমরা এজাহার নামীয় আসামিদের নাম বলতে পারছি না। কারণ এতে মামলার তদন্ত ও অভিযানে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

প্রসঙ্গত, রোববার ভোর ৬টা থেকে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা মহাসড়কের শিমরাইল, সানারপাড় এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে, বালুর বস্তা রেখে, টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ও লাঠিসোটা নিয়ে অবরোধ করে রাখে। বেলা ১১টায় বিক্ষোভকারী হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর