বেপরোয়া ইউনিয়ন পরিষদ: টাকা হলেই মিলে এক ব্যক্তির একাধিক জন্ম নিবন্ধন!
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়ন পরিষদে চলছে জন্ম নিবন্ধন বাণিজ্য। উৎকোচের বিনিময়ে চলে পরিচয় গোপন ও বয়স বাড়ানোসহ জাল সনদ কাগজপত্র তৈরির মতো কাজ। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে একই ব্যাক্তির নামে বে-নামে একাধিক জন্ম নিবন্ধন দেয় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা নবীন।
এ কাজের সাথে চেয়ারম্যান, সচিব, মেম্বারও জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে, জন্ম সনদ জালিয়াতির বিষয়ে সম্পূর্ণ কিছু অস্বীকার করেছে সুবিধাভোগী পরিবার।
তথ্য আইন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার শাখারপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী হাপছা আক্তার (১৫)। সে শাখারপাড় গ্রামের প্রবাসী ফারুক মোল্লার বড় মেয়ে। তার একই নামে ভিন্ন জন্ম তারিখে দুইটি জন্ম সনদ রয়েছে। আবার নাম পরিবর্তন ও বয়স বাড়িয়ে আদিবা ইসলাম, পিতা- ফারুক হোসেন নামে ইশিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আরেকটি জন্ম সনদ তৈরি করে দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে একটি দিয়ে স্কুলের রেজিষ্টেশন ও একটি দিয়ে কয়েক মাস আগে মাদারীপুর সদর উপজেলার রায়েরকান্দি শ্রীনদী গ্রামের আলতাব হাওলাদারের ছেলে পর্তুগাল প্রবাসী কারিম হাওলাদার (শামিম) এর সাথে ওই ছাত্রীকে বাল্য বিবাহ দিয়েছে পরিবার লোকজন। এবং আরেকটি পাসপোর্টের কাজে ব্যাবহার করা হবে বলে জানা গেছে।
তবে কোন তথ্যের ভিত্তিতে এই জন্ম সনদ দিয়েছে ইউপি চেয়্যারম্যান এ.কে.এম ফয়েজুর রহমান হিরু ও উদ্যোক্তা নবীন তার কোনো প্রমান পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে ওই ছাত্রীর মা হালিমা বেগম বার্তা বাজারকে বলেন, আমার দুই মেয়ে এক ছেলে। আদিবা নামে কোন মেয়ে নাই। বড় মেয়ে টেইনে ও ছোট মেয়ে সিক্সসে পড়ে। আর ছেলে ছোট। সেই সাথে নিজের মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলে, আমার কোন মেয়ে বিয়ে দেই নাই।
কারিম মোবাইল ফোনে বার্তা বাজারকে জানান, আমার স্ত্রী হাপছাকে বিদেশে আনবো শুনে তারা এতো গুলো কাগজ করছে। কিন্তু আমি কিছু জানতাম না। আদিবা আর আমার বৌ একজনই।
কারিমের মা বার্তা বাজারকে বলেন, আমাদের বলছিলো মেয়ে পড়া-শোনা করে না। বয়স ১৯ বছর। তাই আমরা বিয়ে দিছি। কিন্তু বয়স কমের কথা জানতাম না। কাগজ পত্রের কথা তারা জানেন।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য (৭,৮,৯ ওয়ার্ড) মেরী বেগম বার্তা বাজারকে বলেন, ফারুকের ভাই আইসা বললো আমার মেয়ে বিয়ে দিছি। ওর স্বামী বিদেশ নিয়ে জাবে। তাই জন্ম নিবন্ধন ফরম কম্পিলিট করে ১০-১২ দিন আগে আমার কাছে আনছে। পরে সই দিছি। তবে এই জন্ম নিবন্ধন হইছে এক-দের মাস আগে, এটা কিভাবে হলো!
উদ্যোক্তা নবীন বার্তা বাজারকে জানান, আমাদের কাছে এবিডেন্স আছে এটাই প্রমান।
এ ব্যাপারে ইউপি সচিব কোন কথা বলতে রাজী হন নি।
ইউপি চেয়ারম্যান এ.কে.এম ফয়েজুর রহমান হিরু বার্তা বাজারকে বলেন, আমার বিষয়টি জানা নেই। যেনে জানাবো।
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বার্তা বাজারকে বলেন, অতি দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আকাশ আহম্মেদ সোহেল/বার্তাবাজার/এ.আর