দেশে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির সাথে সাথে শঙ্কার জন্ম দিচ্ছে এর টিকা পাওয়া নিয়ে। প্রথম ডোজ টিকা অনেকেই পেলেও দ্বিতীয় ডোজের জন্য পর্যাপ্ত টিকা বাংলাদেশের স্টকে নেই। ভারত থেকে চলতি মাসে যে টিকা আসার কথা সেটিও আসেনি।
এরই মাঝে ভারত ঘোষণা দিয়েছে, নিজেদের চাহিদা মেটানো পর্যন্ত আপাতত তারা টিকা রপ্তানী বন্ধ রাখবে। তাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে আসার পর রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকা দেওয়ার ধারা অন্যহত রাখার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আসেনি মার্চের চালান।
ভারতের টিকা আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মা জানায়, তারা সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যোগাযোগ করছে কিন্তু এখন পর্যন্ত সেখান থেকে আশাবাদি হওয়ার মতো কোনো খবর তারা পান নি। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হয়ে গেছে এবং ৬০ লাখের বেশি মানুষ প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছেন। দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেয়ার জন্য যে টিকা দেয়ার কথা সেটি নেই।
সোমবার (২৯ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, শেষ পর্যন্ত যদি টিকা না আসে তাহলে বাংলাদেশে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেয়া সম্ভব হবে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা নিয়ে একপাক্ষিক অবস্থান অর্থাৎ শুধু ভারত নির্ভরতার কারণেই বাংলাদেশকে বিপদে পড়তে হয়েছে। কারণ যদি একাধারে ফাইজার, মর্ডানা এবং চীনের ভ্যাকসিনের জন্য অনুমোদন দেয়া হতো তাহলে হয়ত বাংলাদেশ টিকা নিয়ে এই বিপদে পড়তো না।
ভারত বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের সংকটে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বাংলাদেশকে একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে। এর আগে পেঁয়াজ নিয়েও একই সমস্যা হয়েছিল। যখন ভারত বাংলাদেশে হঠাৎ করেই পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধ করে দিয়েছিলো। এখন টিকা নিয়েও ভারতের এই উল্টো যাত্রা বাংলাদেশকে এক ধরনের বিপদেই ফেলছে বলে চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
বার্তাবাজার/এসজে