মাদারীপুরের শিবচরে একটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রাইভেট কারে ‘সংসদ সদস্য’ লেখা মেটাল ডিস্ক লাগানোয় ১০ হাজার টাকা জরিমানা গুনেছেন নোয়াখালীর বসুরহাট পৌর মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার ছেলে তাশিক মির্জাকে আমন্ত্রণ জানানো চেয়ারম্যান।
জানা যায়, উপজেলার লিখলী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ওয়াসিম মাদবরের পক্ষে ‘সংসদ সদস্য’ লেখা মেটাল ডিস্ক লাগানো প্রাইভেট কার নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন তাশিক মির্জা। বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালত জানতে পেরে ওই প্রার্থীকে শনিবার (২৭ মার্চ) রাতে ১০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান।
ভ্রাম্যমাণ আদালত জানায়, শনিবার বিকেলে কিছু বহিরাগত লোক সংসদ সদস্য লেখা মেটাল ডিস্ক লাগানো একটি প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো-খ ১৩-১৭৫৬) নিয়ে নিলখী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ওয়াসিম মাদবরের বাড়িতে এসে অবস্থান করেন। তারা ওই প্রার্থীর পক্ষে প্রাইভেটকারটি নিয়ে ঘুরে কলাতলা, নিলখীবন্দর, বাগমারাসহ নির্বাচনী এলাকা ভোটারদের কাছে ভোট চান।
প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা বিষয়টি প্রশাসনের কাছে জানান। নির্বাচন চলাকালীন আচরণ বিধি লঙ্ঘন হওয়ায় শিবচর থানা পুলিশ ওই প্রাইভেট কারসহ চেয়ারম্যান ও বহিরাগতদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নিয়ে আসেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী ওয়াসিম মাদবর বলেন, ‘সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো গাড়িতে বসুরহাটের পৌর মেয়র কাদের মির্জার ছেলে তাশিক মির্জা। সে আমার ভাগ্নে রাইসুল ইসলাম অনিকের বন্ধু। সে শিবচরে এসেছিল, আমার ভাগ্নের বন্ধু হওয়ায় সেই সুবাদে রাতে আমার নির্বাচনী এলাকা নিলখীতে এসেছিল। এর চেয়ে বেশি কিছু না।’
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রাইভেট কার নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করলে আচরণ বিধি লঙ্ঘন হবে। কিন্তু এক চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ম না মেনে দুটি প্রাইভেট কার নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করছিলেন। আচরণ বিধি লঙ্ঘন করায় ওই প্রার্থীকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করে সর্তক করা হয়েছে।’
বার্তাবাজার/এসজে