মধ্যযুগীয় কায়দায় কাঠ ব্যবসায়ীকে নির্যাতন (ভিডিওসহ)
পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় স্থানীয় এক চৌকিদারের উপস্থিতিতে আল আমিন (৩১) নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
উপজেলার পত্তাশী এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রোববার রাত ১০টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবী ভূক্তভোগীর। বর্তমানে পুলিশ প্রহরায় হ্যান্ডকাফ পরিহিত অবস্থায় পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নির্যাতিত আল আমিন এর চিকিৎসা চলছে। নির্যাতিত আল আমিন ওই গ্রামের মোঃ আলী আকবারের ছেলে।
আল আমিন জানায়, রোববার রাতে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় মাহাফিল শুনে স্থানীয় এক যুবকের সাথে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় একটি বাড়ির উপর থেকে যাওয়ার সময় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন হাওলাদারের কর্মী তরুন, স্বপন, ছোমেদ, আলম ফকির সহ ১০-১২ জন তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এর পর হাত পা বেধে মাটিতে ফেলে নির্মম ভাবে মারধর করে। এ সময় ওই ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার মোঃ রিয়াজ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও, সে নিরব ভূমিকা পালন করে।
আল আমিন এর অভিযোগ সে পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান এর সমর্থক থাকলেও, বর্তমানে তার সাথে দুরত্ব রয়েছে। এ জন্যই তার উপর ক্ষিপ্ত রয়েছে চেয়ারম্যান। তার নির্দেশে বর্বরোচিত এ হামলা চালায়।
পরে ইন্দুরকানী থানা পুলিশ খবর পেয়ে আল আমিনকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে পুলিশ প্রহরায় জেলা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
আল আমিনকে মারধরের খবর শুনে চৌকিদার রিয়াজকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম। এরপর তিনি বিষয়টি থানায়ও জানান। তবে এ ঘটনায় তার কোনো লোক জাড়িত কি-না তা তার জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন। আল আমিনকে ব্যাপক ভাবে মারধর করে নি বলে দাবি করেছে চৌকিদার রিয়াজ।
এ বিষয়ে ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, একটি মেয়েকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগে আল আমিনকে আটকের পরে মারাত্মক ভাবে মারধর করেছে এবং এ ঘটনায় ইন্দুরকানী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা হয়েছে বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, বিষটি তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।
ভিডিও আসছে: https://www.facebook.com/bartavideo
বার্তাবাজার/হৃ.আর