কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা
এক সময় ইতিহাস-সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বাঙালির রক্তের সাথে মিশে ছিল গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। যা কালের বিবর্তনে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে এই ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। প্রায় ১৫-২০ বছর আগেও গ্রাম-গঞ্জে দেখা মিলতো ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা।
কালের বিবর্তনে এখন আর দেখা মিলে না ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। তবে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে হঠাৎ দেখা মিলল ঐতিহ্যবাহী এই লাঠিখেলার। নানা বয়সী মানুষ আগ্রহ নিয়ে ভিড় করেছিল সেখানে। আগের মতো লাঠিখেলা দেখা না গেলেও ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির ধারক হিসেবে বাসাইলের কয়েকটি এলাকার লাঠিয়াল দল এখনো ধরে রেখেছেন গ্রামবাংলার এই খেলাটি।
জানা যায়, জীবনের প্রয়োজনে সভ্যতার শুরু থেকেই বাঁশের লাঠি হাতে তুলে নিয়েছিল মানুষ। কখনো প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে, কখনো বা হিংস্র জীবজন্তুকে প্রতিরোধ করতে লাঠি চালানোর নানা কৌশল আবিষ্কার করেছিল মানুষ। কালক্রমে সেই বাঁশের লাঠি থেকেই ‘লাঠিয়াল’নামে নতুন পেশার সৃষ্টি হয়েছিল। কালের বিবর্তনে সমাজ-জীবন থেকে সেই লাঠিয়াল বাহিনীর বিলুপ্তি পথে।
লাঠিয়াল বাহিনীর আলিম মিয়া বার্তা বাজারকে বলেন, প্রাচীনকালে জমিদাররা শক্র দমনে লাঠিয়াল ব্যবহার করতো। জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর লাঠিয়ালদের প্রয়োজন ফুরালেও তাদের বংশধররা এটাকে খেলা হিসেবে আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন।
লাঠিয়াল বাহিনীর আবুল কালাম বার্তা বাজারকে বলেন, লাঠিখেলা দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খেলা। তবে আধুনিক খেলাধুলার ভিড়ে এই ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা হারিয়ে যেতে বসেছে। সবার সম্মিলিত উদ্যোগে একে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এই ঐতিহ্যবাহী খেলাটিকে ধরে রাখতে।
লাঠিখেলাপ্রেমী দর্শক বাছেন খান বার্তা বাজারকে বলেন, লাঠিখেলা গ্রাম-অঞ্চলের মানুষের নির্মল বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। লাঠিখেলায় শুধু লাঠি দিয়ে খেলাই হয় না, সঙ্গে প্রদর্শন করা হয় নানা রকম শারীরিক কৌশল। যেসব বাঙালী ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, গ্রামীণ খেলাধুলা কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে, তার মধ্যে অন্যতম একটি লাঠিখেলা। এই লাঠিখেলাকে টিকিয়ে রাখার দাবি সবার।
হাসান সিকদার/বার্তাবাজার/হৃ.আর