পাবনায় কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন
পাবনায় ইছামতি নদী পারের বৈধ বসতি দাবিদারদের বসতি উচ্ছেদের প্রতিবাদে কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছে উচ্ছেদ তালিকায় থাকা বৈধ বসতি দাবিদারেরা।
সোমবার(২৯ মার্চ) সকার ১০টা থেকে শহরের আব্দুর হামিদ সড়কের এ আর শপিং কমপ্লেক্স এর সামনে এই আমরণ অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
পাবনা পৌর এলাকার মধ্যদিয়ে বয়েচলা শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী ইছামতি নদী দীর্ঘদিন পরে খনন হতে যাচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম দিকে প্রাথমিক উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়। সিমানা নির্ধারন ও আদালতে মামলা পক্রিয়াধীন থাকার কারনে বন্ধ রাখা হয় নদী খনন কাজ।
সম্প্রতি সরকারের নদী রক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসাবে আর পাবনা বাসীর দীর্ঘদিনের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে পাবনা পানি উন্নয়বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও পাবনা পৌরসভার সমন্বয়ে এই নদী খনন কাজ আবারো শুরু করতে যাচ্ছে।
কিন্তু নদীর দুই পারের শতবর্ষ ধরে বৈধ ভাবে সরকারের খাজনা খারিজ দিয়ে বসবাসকৃত কয়েক হাজার বসতি আজ উচ্ছেদের হুমকির মুখে। কোন প্রকারের নোটিস বা আলোচনা ছাড়াই এই কার্যক্রম চলালো হবে বলে বলেছে আন্দোলনকারীরা।
তাদের দাবি- চার পুরুষের বৈধ বসতিদের কাগজ পত্র দেখে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম করা হোক। আর যদি নদীর খনন করার জন্য জায়গা প্রয়োজন হয় তাহলে ক্ষতিপূরন দিতে হবে সরকারকে। আমরা সরকারের সকল খাজনা খারিজসহ চারটি রেকর্ডধারী জমির মালিক। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়নবোর্ড আমাদের জোর পূর্বক নিজের বৈধ জমিকে অবৈধ বলে উচ্ছেদ করতে চাচ্ছেন। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান না হবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
তারা বলেন, প্রয়োজনে লাশ হয়ে ফিরে যাবো তবু এই সমস্যার সমাধান চাই। উচ্ছেদ করলে পূর্নবাসনের ব্যবস্থা চাই প্রধানমন্ত্রীর হস্তোক্ষেপ চান এই অসহায় নদী পারের মানুষেরা। চারটি বৈধ রেকর্ডধারীদের অবৈধ বলে কোন প্রকারের আলোচনা না করে জোড় পূর্বক সিমানা নির্ধারণ করে উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক এখনো মামলা চলমান। যেখানে কোন সমাধান দেননি বিচারক। সেখানে তারা আইন অমান্যকরে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম করতে যাচ্ছে বলে জানান তারা।
আগামী ৩১ মার্চ থেকে অবারো পাবনা ইছামতি নদী খনন কাজ শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে অনেকেই নিজ উদ্যোগে বসবাড়ি সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।
মোঃ মাসুদ রানা/বার্তাবাজার/পি