মোদির বাংলাদেশ আগমন: ৩ দিনে নিহত ১৩

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে হেফাজতে ইসলামের প্রতিবাদে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ১৩ জন। শুক্রবার (২৬ মার্চ) থেকে রোববার (২৮ মার্চ) পর্যন্ত এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৩ জন নিহতের হিসেব পাওয়া গেলেও হেফাজতের আমির জুনাইদ বাবুনগরীর মতে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

তিনি বলছেন, হাটহাজারীতে নিহত চারজনসহ এখন পর্যন্ত সারাদেশে সংগঠনটির ১৬ জন নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একইসঙ্গে এতে অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবে যোগ দিতে শুক্রবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তার আগমনের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছে বিভিন্ন সংগঠন। একইদিন জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনে বিক্ষোভ করে হেফাজতে ইসলাম। তখন আওয়ামী লীগ ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে তাদের। এরপর এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশেই।

শুক্রবার (২৬ মার্চ) বিকেলে চট্টগ্রামে অন্তত ৪ জনের মৃত্যু

বায়তুল মোকাররমে সংঘর্ষের জেরে চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে জুমার বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। তখন পুলিশের সাথে সংঘর্ষে আহত হন বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী। তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর আমরা মোদিবিরোধী মিছিল বের করেছিলাম। মিছিল থানার সামনে যাওয়ার পর পুলিশ বিনা উস্কানিতে আমাদের ওপর গুলি চালায়। এতে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম, মেহরাজ, মো. জামিল এবং আবদুল্লাহ নামের অপর এক ব্যক্তি।

একইদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিহত ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে এদিন একদল মাদ্রাসার ছাত্র বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে তাদের সাথে আরেকটি মাদ্রাসার ছাত্ররা যোগ দেয়। এসময় হাটহাজারীতে সহিংসতায় মৃত্যুর খবর পৌঁছলে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালায়।

স্থানীয় পত্রিকা একুশে আলোর সম্পাদক সেলিম পারভেজ বলেন, বিক্ষোভকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনে অগ্নিসংযোগ করে এবং শহরে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালায়। তারা বেশ কিছু গাড়িতেও অগ্নি সংযোগ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের দমাতে পুলিশ গুলি করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন মাদ্রাসা ছাত্র নিহত হয়।

শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিহত ৫ জন

শনিবার বিকেলে সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় বিজিবি ও পুলিশের সঙ্গে মোদী বিরোধীদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে পাঁচজন নিহত হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ‘হাসপাতালে আনার আগেই তিন জন মারা যান। বাকী দুজন হাসপাতালে মারা গেছেন। তারা গুলিবিদ্ধ ছিলেন।’

এ ঘটনায় নিহতরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার হারিয়া গ্রামের ওয়ার্কশপ শ্রমিক জোহর আলম (৪০), মজলিশপুর ইউনিয়নের মৈন্দ গ্রামের সুজন মিয়া (২০), বুধল ইউনিয়নের কাউসার মিয়া (২৫) এবং সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার শ্রমিক বাদল মিয়া (২৮)। এছাড়া কান্দিরপাড়া এলাকায় সংঘর্ষে নিহত ছাত্রের নাম জুবায়ের (১৪)।

রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আরও ৩ জনের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে হাইওয়ে থানায় হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই জন মারা গেছে। এছাড়া জেলা শহরের পীরবাড়ি এলাকায় পুলিশ লাইনে হেফাজতের নেতা-কর্মীদের হামলার পর সেখানে গুলিবিদ্ধ আরেকজন হাসপাতালে মারা গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক সৈয়দ আরিফুল ইসলাম জানান, প্রথম দুই জন ছাড়াও বিকেল ৩টার দিকে গুলিবিদ্ধ আরেকজন মারা যান। প্রায় চল্লিশ বছরের অজ্ঞাতপরিচয় এই ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় শহরের পীরবাড়ি এলাকা থেকে দুপুর সোয়া ২টার দিকে কয়েকজন নিয়ে এসেছিল।

গুলিতে নিহতরা হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের খাঁটিহাতা গ্রামের আলতাফ আলী ওরফে আলতু মিয়ার ছেলে হাদিস মিয়া ওরফে কালন মিয়া (২৩) এবং সরাইল উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া গ্রামের সুফি আলীর ছেলে আল আমীন (২০)।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর