পায়েস কিংবা ফিরনি এ অঞ্চলের প্রাচীন খাবার। পায়েস একটি রাইস পুডিং জাতীয় খাবার। এটাতে স্বাদের জন্য এলাচ, কিশমিশ, জাফরান, কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম বা কাজুবাদাম দেওয়ার পাশাপশি প্রাকৃতিক সুগন্ধির জন্য এক ধরনের পাতা ব্যবহার করা হয় যা পোলাওপাতা নামে পরিচিত। এর প্রমাণ পাওয়া যায় এই গাছের ছোট কিংবা বড় যেকোন পাতা আঙ্গুল দিয়ে ডললে এক ধরনের রস বেড়িয়ে আসে যার গন্ধ সত্যিই পোলাওয়ের মতো।
জানা যায়, বাংলাদেশের উপকূলীয় যেমন সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট প্রভৃতি জেলা এমনকি উত্তরবঙ্গের ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়ে এটি বেশি দেখা যায়। তবে জেলার অনেক জায়গায় তেমন একটা চোখে পড়েনা এই প্রাকৃতিক সুগন্ধির গাছের।
সম্প্রতি রাণীশংকৈল উপজেলার পদমপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এক কৃষকের বাড়িতে আম গাছের নিচে সেই পোলাওপাতা গাছের। অপরদিকে, এক থেকে দুই ফিট উচু এই পোলাওপাতা গাছ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌরশহরে নজরুল ইসলামের বাড়িতে কলা গাছের নিচে ঝোঁপের মধ্যে দেখা যায় এই ছোট গাছের। এ গাছের বিষয়ে কথা হয় বাড়ির মালিক নজরুল ইসলামের সাথে।
তিনি বার্তা বাজারকে জানান, এই পোলাওপাতা শুধু ফিরনি পায়েসে ব্যবহার করা হয়না, ব্যবহার করা হয় লাল চা এমনকি সেমাই এ সুগন্ধির জন্য। এতে এইসব খাবারে সুগন্ধির জন্য আর আলাদাভাবে কোনো কিছু ব্যবহারের দরকার হয়না।
এই পোলাওপাতা দেখতে লম্বা, সরু এবং খাড়া যার অগ্রভাগ তীক্ষ্য। তবে এই পাতায় কোনো কাঁটা নেই। যেকোন খাবারে রান্নার সময় ব্যবহার করা এবং খাবার পরিবেশনের আগে এই পাতা ফেলে দেওয়া হয়। আনারসের গাছের মতো এর গোড়ায় মোথা আকারে অনেকগুলো ছোট ছোট চারা বের হয়। গোড়ায় জন্মানো ছোট ছোট চারাগুলো আলাদা করে লাগালে এর বংশবৃদ্ধি ঘটে। পোলাওপাতা গাছ বহুবর্ষজীবী । পোলাওপাতা তেমন কোনো যত্ন ছাড়াই বাসা-বাড়ির আঙ্গিনায় কিংবা ফুলের টবে শোভা পায়। এর বৃদ্ধি আধোঁছায়াযুক্ত স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় ভালো হয়।
মো: সবুজ ইসলাম/বার্তাবাজার/হৃ.আর