নান্দাইলে মাটি বোঝাই ট্রাক্টর চলাচলে ক্ষতবিক্ষত গ্রামীণ সড়ক
নান্দাইল উপজেলায় শুস্ক মওসুমে ইটভাটাগুলোতে ইট তৈরীর ধুম লেগে যায়। এ কাজ ব্যবহৃত হয় তিন ফসলী জমির মাটি। আর এই মাটি সরবরাহ করে এক শ্রেণির মাটি দালাল। তারাই চুক্তিতে ভাটাগুলোতে চাহিদামত মাটির যোগান দেয়। আর এতে মাটি সরবরাহের জন্য অবৈধ ট্রাক্টর ব্যবহার করার জন্য ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ছে গ্রামীণ সড়ক।
সরজমিনে উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের ভোরাঘাট বাজার পাকা সড়কে গিয়ে দেখা যায়, ভোরাঘাট বাজার থেকে ভোরাঘাট গ্রাম পর্যন্ত একটি কাচা সড়ক রয়েছে। প্রতিদিন ১২টি ট্রাক্টর এই মাটি আশেপাশের ইটভাটাসহ বিভিন্ন জায়গায় পৌছে দিচ্ছে। এতে সড়কে হাটু সমান বালির গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ধূলাবালির কারণে পথচারিরা এ পথ এড়িয়ে চলছে।
মুশুলী ইউনিয়নের মেছেরকান্দা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামের পাকা সড়ক থেকে কুড়ের পাড় পর্যন্ত একটি কাঁচা সড়ক দিয়ে মানুষ চলাচল করে। ওই সড়কে ট্রাক্টর দিয়ে ইটভাটাতে মাটি আনা-নেওয়া করা হচ্ছে। এতে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগি হয়ে গেছে। একই ইউনিয়নের মুশুলী গ্রামের আরেকটি পাকা সড়কে দিয়ে দেখা গেছে ইটভাটিতে মাটি নেওয়ার কারণে সড়কের চারপাশের জমিতে ধূলাবালু পড়ে ফসলের জমি নষ্ট হচ্ছে। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার খানেক পথচারি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে।
ওই তিনটি সড়কের পাশে একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, মাটি বহনকরা ভারি ট্রাক্টরের চাপ সহ্য করতে না পেরে সড়কের দুপাশ ধসে পাশের বোরো জমিতে গিয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও বাঁশের খুঁটি দিয়ে মাটি আটকানোর বৃথা চেষ্টা করে কাজ হচ্ছে না। প্রতি বছরই সড়কগুলোতে এভাবে মাটি নিয়ে বেহাল দশায় পরিণত করা হলেও দেখার যের কেউ নেই।
মাটি ব্যবসায়ী এমদাদুল হক জানান, তিনি সেভেন স্টার ইটভাটাকে প্রতি হাজার মাটি ৬ হাজার টাকা ধরে বিক্রি করেন। সড়ক নষ্ট হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাটি নেওয়া শেষে মেরামত করে দেওয়া হবে।
এই বিষয়ে মুশুলী ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার উদ্দিন ভূইয়া বিপ্লব ও রাজগাতী ইউপি চেয়াম্যান রোকন উদ্দিন জানান, মাটি পরিবহণ কাজে জড়িতদের একাধিক বার বললেও তারা কথা শুনতে চায়না। তাদের নষ্ট করা ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক একসময় আমাদেরই মেরামত করতে হয়।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার এরশাদ উদ্দিন জানান, তিনি ইটভাটার মালিকদের ডেকে সর্তক করেছেন। এরপরও অবৈধ ভাবে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি নিয়ে সড়ক নষ্ট করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জড়িতদের সাজার ব্যবস্থা করবেন।
মজিবুর রহমান ফয়সাল/বার্তাবাজার/পি