আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবি মেনে নিতে আল্টিমেটাম দিয়েছে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। এ সময় আরও বলা হয়, এই দাবি মানা না হলে আগামি ৬ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে।
গত ২৪ মার্চ (বুধবার) শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. কামরুজ্জামান এবং সাধারন সম্পাদক ড.আবু সালেহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত সোমবার (২২ মার্চ,২০২১) বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা আয়োজিত হয়, এতে ১২৮ জন শিক্ষকের উপস্থিতিতে পূর্বনির্ধারিত এজেন্ডাভিত্তিক শিক্ষকদের প্রাপ্যতার তারিখ হতে প্রমােশন, শিক্ষা ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের চাকুরী স্থায়ীকরণ, পারিতোষিক হার যুগোপযোগীকরণ, খণ্ডকালীন শিক্ষকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ, বহিঃস্থ বিভাগে পাঠদানের জন্যে সম্মানী প্রদান, প্রত্যেক শিক্ষকের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা, স্বতন্ত্র বাস সেবা চালুকরণ, শিক্ষার্থীদের জন্য সার্বক্ষণিক মেডিকেল সেবা প্রদান, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের জন্যে পদক্ষেপ গ্রহণ, প্লাজারিজম চেক করার জন্যে সফটওয়্যার ক্রয় করাসহ বিভিন্ন জার্নাল যেমন Elsevier, Sage, Springer, JSTOR এ গবেষণাপত্র/প্রবন্ধ পড়া এবং ডাউনলোড করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ হতে MoU করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব পরিচালনার জন্যে কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা এবং প্রশাসনের উদাসীনতার বিষয়টি উল্লেখ করে সভায় উপস্থিত শিক্ষকগণ হতাশা জ্ঞাপন করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ শিক্ষক নিয়োগ/আপগ্রেডেশন বোর্ড অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এবং সর্বশেষ রিজেন্ট বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাস হতে নিয়মিত উপচার্য না থাকা, পরবর্তীতে ১১ মাস রুটিন দায়িত্বে থাকা উপাচার্যের নির্বাচনী বোর্ড, পদোন্নতি বোর্ড এবং রিজেন্ট বোর্ডের সভা আহ্বানের এখতিয়ার না থাকায় এবং বর্তমান উপাচার্য মহোদয়ের দায়িত্ব নেয়ার ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও রিজেন্ট বাের্ডের সভা আহ্বান না করায় প্রায় ১৫০ শিক্ষক সাড়ে ৩ বছর হতে ন্যূনতম ৬ মাস যাবত পদোন্নতি বঞ্চিত হয়ে আসছেন।
প্রশাসনের উদাসীনতা সমগ্র শিক্ষকদের প্রতি অবহেলা ও অবজ্ঞার সামিল উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের ১৭ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে (১২ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক সুবিধাসহ) প্রাপ্যতার তারিখ (ডিউ ডেট) হতে আপগ্রেডেশনের জন্য সু-স্পষ্ট বিধান থাকলেও জাতির জনকের নামে নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ ২/৩ বছর যাবত পদোন্নতি বঞ্চিত শিক্ষকদের আর্থিক, মর্যাদাগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক পেশাগত জটিলতা নিরসনে প্রাপ্যতার তারিখ (ডিউ ডেট) থেকে আর্থিক সুবিধাসহ আপগ্রেডেশন বাস্তবায়নে বর্তমান প্রশাসনের এত অনীহা শিক্ষক সমাজের কাছে বােধগম্য নয়।
এ সময় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষক ক্লাব পরিচালনার জন্য ড. হাসিবুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং ডা.নিশিত কুমারকে সদস্য সচিব, ড.কামাল হোসেন, আবুল বাশার রিপন খলিফা, ড.দীপঙ্কর কুমার, জাকিয়া সুলতানা মুক্তাসহ ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কিউ এম মাহবুব বার্তা বাজারকে বলেন, শিক্ষকরা আল্টিমেটাম দিতেই পারে তাদের জায়গা থেকে, কিন্ত, আমাকে কতগুলো নিয়মের মধ্যে আমাকে কাজ করতে হয়। আমার ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধ।
আমি চাইলেই সব কিছু করতে পারিনা। ইউজিসি (বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জরী কমিশন) আছে, মন্ত্রণালয় আছে। ইউজিসির নিকট আমি তাদের দাবিগুলো পেশ করব।
শিক্ষা ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের চাকুরী স্থায়িকরন ব্যাপারে তিনি বার্তা বাজারকে বলেন, প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য তিন মাস, চার মাস বা ৬ মাস পর পর পদ চেয়ে ইউজিসির নিকট আবেদন করে। গত তিন বছরে পদ চেয়ে তারা কেউ আবেদনই করেনি। তিন বছরের কাজ তো আমি তিন মাসে করতে পারব না।”
এছাড়াও শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বার্তা বাজারকে বলেন, “আমি আসার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ডাক্তারও ছিলনা, আমি এসে একজন ডাক্তার নিয়োগ দিয়েছি। আমার একাডেমিক বিল্ডিংর কাজ এখনো শেষ হয়নি।
জায়গার তুলনার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। প্রত্যেকটা জায়গায় সমস্যা। শিক্ষকদের যে দাবিগুলো উঠে এসেছে তা একদিনে পূরন করা সম্ভব না। তার জন্য সময় দিতে হবে। নিয়মের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।
উল্লেখ্য, শিক্ষা ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের চাকুরী স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতি বঞ্চিত শিক্ষকদের প্রাপ্যতার তারিখ হতে প্রমােশনের দাবিতে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি গত বছরের ২৩ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ধারাবাহিক মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসে।
বার্তাবাজার/এ.আর