আগামীকাল চট্টগ্রামে হরতালের ডাক দিয়েছে হেফাজত

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে হাটহাজারী মাদ্রাসার বিক্ষোভ চলাকালে নিহতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে রোববার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতা-কর্মীরা। শুক্রবার (২৬ মার্চ) থেকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করে রেখেছে হেফাজত কর্মীরা। তবে যানবাহন চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি।

শনিবার (২৭ মার্চ) দুপুর দেড়টায় নগরের জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্টিত হয়। সমাবেশ ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ছিলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সমাবেশে থেকে বক্তারা আগামীকাল রোববার (২৮ মার্চ) সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষনা দেন।

এসময় বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আল্লামা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সায়েম উল্লাহ, মহানগর নেতা ইউছুফ বিন ইয়াকুব, মির্জা ইয়াছিন, মাওলানা শামীম, আলী উসমান, কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমীর ও মহানগর সেক্রেটারি লোকমান হাকিম প্রমূখ।

সমাবেশ শেষে হেফাজত ইসলাম কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমীর ও চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি হাফেজ মাওলানা তাজুল ইসলাম।

এদিকে, স্থানীয়রা জানিয়েছে, হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের অবরোধের মুখে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি, রামগড়, ফটিক ছড়ি ও নাজির হাট সড়কে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়কে ইটের দেওয়াল বানিয়ে অবস্থান নিয়েছে হেফাজত কর্মীরা। অনেকে পায়ে হেঁটেও অবরোধস্থল পার হচ্ছেন। দূরপাল্লার বড় যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

শনিবার বিকেল তিনটার দিকেও চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের হাটহাজারীর ত্রিবেণীর মোড়ে হাজারখানেক হেফাজতকর্মী অবস্থান করছিল।

গোটা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি প্রায় সাড়ে তিন’শ র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল একটি সূত্র।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন বার্তা বাজারকে বলেন, আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যানবাহন চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার বাদে জুমা হেফাজতকর্মী সমর্থকরা বিক্ষোব্দ হয়েপুলিশের উপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ গুলি ছুঁড়লে মাদরাসার বিক্ষোভকারীরা পিছু হটে। এরপর তারা মাদরাসার মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ১১ জনকে বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে চারটার মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

আহতদের মধ্যে মধ্যে চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। হাসপাতাল সূত্র মতে নিহতরা হলেন- রবিউল ইসলাম, মিরাজুল ইসলাম, নাসিরুল্লাহ ও মিজানুর রহমান। এর মধ্যে তিনজন হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্র ও পেশায় দর্জি। তবে সে হেফাজত কর্মী বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বার্তাবাজার/এ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর