ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেছেন, শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তান্ডবের সময় জুব্বাওয়ালাদের পাশাপাশি শার্টপ্যান্টওয়ালাও ছিলো। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরাও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সাথে হামলায় সরাসরি অংশ নেয় যা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে।
তিনি শনিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্থানীয় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে বাংলাদেশের এক অন্যন্য অর্জন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ও দু’দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক হায়াত উদ-দৌলা খাঁনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি আরো বলেন, যে সকল উগ্রবাদী মাদরাসার শিক্ষার্থী সরকারি, বে-সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করেছে তাদের কাছে আমার প্রশ্ন পবিত্র কোরআন শরীফের কোথায়ও কি এসব অপকর্মের বৈধতা দেওয়া আছে? কিংবা মহানবী (সাঃ) কোন হাদিসে এসব অপকর্মের কোন বৈধতা দেওয়া হয়েছে কিনা।
যদি এসব অপকর্ম ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনার উপর হামলা ভাংচুর ইসলাম সমর্থন না করে তাহলে আপনারাও ইসলামের বন্ধু নন বরং কোরআন ও ইসলামের শত্রু।
তিনি বলেন,পৃথিবীতে এমন কোন মানুষ আছে কিনা যিনি ফুলকে ঘৃনা করেন? ফুলকে ভালোবাসেনা? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে যারা শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরের সামনে ফুলের বাগানে হামলা ভাংচুর করেছে তারা নিঃসন্দেহে মানুষরূপী অমানুষ ও কুলাঙ্গার। তাদেরকে ধিক্কার জানাই। এখন সময় এসেছে আপনার সদকা, যাকাত ও দান কোথায় করবেন। যারা ফুলের বাগান নষ্ট করেছে, বিভিন্ন সরকারি, বে-সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করেছে তারা খুনী ও পাকিস্তানের বংশধর।
তিনি বলেন, আপনারা যারা রেললাইনে হামলা করেছেন, তারা যদি বাপের বেটা হন তাহলে ট্রেনে উঠবেন না। আপনারা যদি বাংলাদেশকে অস্বীকার করেন তাহলে দেশ ত্যাগ করে চলে যেতে পারেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, পৌর মেয়র মিসেস নায়ার কবির, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারন সম্পাদক এস.আর.এম ওসমান গনি সজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিও, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লোকমান হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জামিসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধাগন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগন।
পরে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিগণ উন্নয়ন মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
মোঃ রাসেল আহমেদ/বার্তাবাজার/হৃ.আর