ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে আছেন। শুক্রবার (২৬ মার্চ) দেশে আসার পর বেশ কয়েক জায়গায় ঘুরে শনিবার (২৭ মার্চ) সন্ধায় তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন। সংসদের বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টির সাথে মোদির সাক্ষাৎ হলেও দেখা হয়নি বিএনপির সাথে।
কিন্ত রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সাথে মোদির সাক্ষাৎ না হওয়ায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা দিয়েছে নানা আলোচনা। এই সাক্ষাৎ না হওয়াটাও একটা তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা বলে অনেকেই মনে করছেন। যদিও বিএনপির দাবি, তারা দলগতভাবে নিজেরা আগ্রহী হয়ে মোদির কাছে সময় চাননি। তাই সাক্ষাৎও হয়নি।
এ বিষয়ে বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটর সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এতটুকু জানি বিএনপির সঙ্গে সফররত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কোনো সাক্ষাত্সূচি নেই। জাতীয় পার্টি বা ১৪ দল তো বিরোধী দল নয়। তারা সরকারি দলের অংশ। সরকারই ওই সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেছে। এখানে আমাদের বলার কী আছে!
তবে একই কমিটির অন্যম সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমরা তো সাক্ষাতের বিষয়ে আগ্রহ দেখাইনি। আমাদেরকে নানা কর্নার থেকে বলা হয়েছে যে আমরা চাইলে সফররত প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎ দেবেন। কিন্তু আমরা চাইব কেন? লেজ কেটে দিলে তো সাক্ষাৎ পাওয়াই যেত।
তিনি আরও বলেন, সফররত প্রধানমন্ত্রী মোদির আইটেনারিতে (সফরসূচি) বিএনপির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ রাখা হয়নি। তাই এর বাইরে গিয়ে দেখা করাটা আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করিনি।
ভারতের সাথে বিএনপির সম্পর্ক নিয়ে দেশের রাজনীতিতে আলোচনা চলছে প্রায় দি যুগেরও বেশি সময় ধরে। বিএনপির সাথে তাদের সম্পর্ক তেমন ভালো নয়।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির পক্ষ থেকে দেশটির সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের সব চেষ্টা সত্ত্বেও সম্পর্কের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। বর্তমান শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে অসন্তুষ্ট করে ভারতীয় কূটনীতিকরা এখনি বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক স্পষ্ট করতে রাজি হচ্ছে না।
প্রথম দফা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৫ সালের জুনে ঢাকা সফরে এলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় নানা অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত মোদির সফরসূচিতে বিএনপির সাক্ষাতের কথা ছিল। কিন্তু এবারে নেই।
বস্তুত, ২০০১ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়ার পর চারদলীয় জোট সরকারের সময় থেকেই ভারতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, অনেক চেষ্টা ও তৎপরতা সত্ত্বেও ওই সম্পর্কে আজ পর্যন্ত জোড়া লাগেনি। যদিও ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার ভারত সফরের মধ্য দিয়ে ওই সম্পর্কে কিছুটা বরফ গলতে শুরু করে।
কিন্তু তার মাত্র ছয় মাসের মাথায় ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় বাংলাদেশ সফরে এলে তাঁর সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেন খালেদা জিয়া। সেদিন জামায়াতের ডাকে হরতাল চলছিল।
বার্তাবাজার/এসজে