প্রেসক্লাবের কক্ষে তালা লাগালেন ইউএনও!

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে তালা লাগানোর অভিযোগ ওঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরুল হাসানের বিরুদ্ধে। স্বাধীনতা দিবস পালনের নাম করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দোকান থেকে চাদা তুলার অভিযোগ ওঠলে সেই সংবা দেশের বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউএনও এ কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা।

শুক্রবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের দিন সকাল ৭টায় দৌলতপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দেন তিনি। এ ঘটনার পরপরই মানিকগঞ্জে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জাতির ইতিহাসের এই গৌরবময় দিনে প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করে বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। অতি শিগগিরই এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

দৌলতপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ.বি. খান বাবু বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবে জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করছে পুরো জাতি। ঠিক এই মুহূর্তে বাকস্বাধীনতার কণ্ঠরোধ করার ভিন্নরকম পায়তারা শুরু করেছেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরুল হাসান। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি দৌলতপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দেন। তালাবদ্ধ ভবনটিতে ২০১৪ সাল থেকে প্রেসক্লাবের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির দিনে পেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এই লজ্জাজনক ঘটনায় গোটা সাংবাদিক সমাজকে অপমান করেছে। প্রেসক্লাবটি সরকারি ভবনে অবস্থিত। ভবনটি সরকারি প্রয়োজনে খালি করার দরকার হলেও প্রেসক্লাবটি সড়ানোর জন্য লিখিতভাবে নোটিশ করার প্রয়োজন ছিলো।

‘বিনা নোটিশে প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দেয়ায় জেলা প্রেসক্লাব তথা গোটা সাংবাদিক মহল মর্মাহত। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অনতিবিলম্বে এর সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর বলেন, এমন একটা দিনে দিনে প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে সাংবাদিক সমাজকে অপমানিত করা হয়েছে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা এইভাবে প্রেসক্লাবে তালা ঝুলাতে পারে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ঘটনায় সরকার পদক্ষেপ না নিলে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরুল হাসান বলেন, ভবনটি সরকারি। দীর্ঘদিন যাবৎ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা অবৈধভাবে ভবনটি ব্যবহার করে আসছে। ক্লাবের সভাপতি এ.বি.খান বাবুকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ভবন ছেড়ে দেয়ার জন্য মৌখিক নির্দেশ দিয়েছি। তার মা অসুস্থ থাকায় পরে আরো ১২ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। তিনি বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে ভবনটি ছেড়ে না দেয়ায় বাধ্য হয়ে সরকারি স্বার্থ রক্ষায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি।

বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর