নৌকা প্রার্থীর বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতার আপিল

যাছাই বাছাই শেষ। নাম উঠে বৈধ প্রার্থীর তালিকায়। তালিকা অগ্রগামী করা হয় জেলায়। হঠাৎ খবর হয় প্রার্থীতা বাতিলের। এ যেন বিনা মেঘেই বজ্রপাত। অনেকটা অবাক হয়ে যান আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা কর্মীরা। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতার আপিল শুনে স্তব্ধ হয়ে যায় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের আসন্ন ইউপি নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশ।

৯ নং সাপলেজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মিরাজ মিয়া এবারও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় প্রার্থীতা বাতিলে ছিদ্রান্বেষন শুরু করে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলের ফসল একটি পক্ষ। কোন ভুল না পেয়ে প্রার্থীর সমর্থনকারীর ঠিকানা নিয়ে শুরু হয় টানা হেঁচড়া। ভাষাগত ভুলকে পুঁজি করে জেলা রিটার্নিং অফিসারকে ভুল বুঝিয়ে আপিলের নামে আটকে দেয়া হয় প্রার্থীতা। শরণাপন্ন হতে হয় উচ্চ আদালতের। এখন বিজ্ঞ আদালতই নির্ধারণ করবে সাপলেজা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা।

ভোটার তালিকায় সমর্থনকারীর ভোটার এলাকার নামঃসাপলেজা (৫ নং ওয়ার্ডের অংশ) অর্থাৎ চড়কগাছিয়া। মনোনয়ন ফরমে সমর্থনকারীর ভোটার এলাকার নামঃ চড়কগাছিয়া অর্থাৎ ৫ নং ওয়ার্ড। মূলত সাপলেজা ইউনিয়নের সাপলেজা নামক একটি গ্রামের আংশিক দক্ষিণ সাপলেজা নাম দিয়ে চড়কগাছিয়া গ্রামের সাথে সংযুক্ত করে ভোটার এলাকা তৈরি করা হয়।

এইচ,এম,গোলাম ছরোয়ার নামে ওই সমর্থনকারীর ঠিকানা জাতীয় পরিচয় পত্রে দক্ষিন সাপলেজা লেখা রয়েছে। আসলে দক্ষিণ সাপলেজা নামে ৯ নং সাপলেজা ইউনিয়নে কোন গ্রাম নেই। এটি চড়কগাছিয়া গ্রামের একটি অংশ।

ওই সমর্থনকারীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত নির্বাচনেও আমি উক্ত নৌকা প্রার্থীর সমর্থনকারী ছিলাম। তখনও মনোনয়ন পত্রে আমার ভোটার এলাকার নাম চড়কগাছিয়া লেখা হয়েছিল। সে সময়তো কেউ ভুল ধরেনি। একটি সঠিক তথ্যকে নিয়ে কে বা কারা বাড়াবাড়ি করে আমার জানা নেই। তবে এই নোংরা রাজনীতির অবসান হওয়া উচিত।

উপজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি ও ৯ নং সাপলেজা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম মোল্লা নৌকা প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিল করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ৬ টি বিষয় নিয়ে আপিল করেছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সমর্থনকারীর ভুল ঠিকানা উল্লেখ করে তথ্য প্রদান।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শওকত হোসেন জানান,উপজেলা নির্বাচন অফিসের যাচাই বাছাইয়ে মিরাজ মিয়া নামে উক্ত প্রার্থী বৈধ তালিকায় আছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার বরাবর কে বা কারা আপিল করায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা জানান, আপিলের বিপরীতে একটি আদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী উচ্চ আদালত থেকে সমাধান পেতে পারে।

নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম জানান,উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীর বৈধতা নিশ্চিত করার পর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানাতে পারব। প্রার্থী বৈধ ঘোষনা হওয়ার পর আবার কিভাবে বাতিল হয়? এটিতো আর্শ্চার্যের বিষয়।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর