পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ১ নং তুষখালী ইউনিয়ন ও ২ নং ধানিসাফা ইউনিয়নের সীমানা সংযোগ এলাকায় ৩ থেকে ৪ কিলোমিটারের মধ্যে একাধিক মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে তুষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাত্র ১০ ফুট দুরত্বে আরেকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মফস্বল এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে আরেকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন বা অনুমোদনের ক্ষেত্রে ৫ কিলোমিটার দূরত্বের নিয়ম মানার বিষয়টি পরিপত্রে উল্লেখ থাকলেও সুস্পষ্ট ওই নিয়ম ভেঙে চালু করা হয়েছে এ প্রতিষ্ঠান।
১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত তুষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে ১৯৭২ সালে স্থাপন করা হয় তুষখালী নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি।ওই বিদ্যালয়টি অনুমোদনের জন্য উপজেলা ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়।এর প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে নিম্ন মাধ্যমিকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনুমোদন পায়।এরপর থেকে শুরু হয় শিক্ষার্থী ভর্তির প্রতিযোগিতা।আর এ অশুভ প্রতিযোগিতার শিকার হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।লাঞ্ছনা ও হয়রানির শিকার হতে হয় অভিভাবকদের।
এমনকি শিক্ষার্থীরা যাতে এক বিদ্যালয় থেকে আরেক বিদ্যালয়ে গিয়ে ভর্তি হতে না পারে সেজন্য আটকে রাখা হয় জেএসসি পাশের সনদ ও নম্বরপত্র।বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি সহ স্থানীয় পর্যায়ে ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দিয়েও বারবার ব্যর্থ হয়ে এখন অনেকটা হতাশ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।যদিও পরিপত্রে উল্লেখ আছে দেশের যেকোন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড /বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত জেএসসি বা জেডিসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের যেকোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (সাধারণ/কারিগরি/মাদ্রাসা) ৯ম শ্রেনীতে ভর্তির যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
তুষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে আধা কি.মি. দুরত্বে তুষখালী আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩ কি.মি. দুরত্বে তুষখালী ইউঃ তোফেল আকন মাঃ বিঃ, আধা কি.মি. দুরত্বে তুষখালী এন এস দাখিল মাদ্রাসা,৩ কি.মি. দুরত্বে ফুলঝুড়ি ওয়াজেদিয়া দাখিল মাদ্রাসা,আধা কি.মি. দুরত্বে হরিনপালা নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা,দেড় কি.মি. দুরত্বে তুষখালী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ৩ কি. মি. দুরত্বে সাফা মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে।কাছাকাছি এতগুলো প্রতিষ্ঠান থাকা স্বত্বেও তুষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাত্র ১০ ফুট দুরত্বে তুষখালী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় অনুমোদন দেওয়া অনিয়ম ছাড়া আর কিছুই নয়।বরং বালিকা বিদ্যালয়ের দোহাই দিয়ে নির্ধারিত দুরত্ব না মেনে সহশিক্ষাকে বাধাগ্রস্থ করা হচ্ছে।
আলাদা আলাদা গার্লস স্কুল ও বয়েজ স্কুল নারী ও পুরুষের মধ্যে বিভাজন নীতি তৈরি করলেও কিছু অসাধু কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে নারী শিক্ষার কথা বলে পাশাপাশি দু’টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় চালু করে শিক্ষার্থী ভর্তির নামে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের মধ্যে দু’টি পক্ষ তৈরি করেন।
সরকারি বিধি মোতাবেক মাধ্যমিক বিদ্যালয় অনুমোদনের জন্য ১.৫০ একর জমি থাকতে হবে।অথচ ওই বিদ্যালয়টিতে জমি রয়েছে মাত্র ৭ শতাংশ।এত কম দুরত্বে ও কম জমিতে কিভাবে আরেকটি প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেওয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সুনীল চন্দ্র সেন জানান,বালিকা বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এক প্রতিষ্ঠান থেকে আরেক প্রতিষ্ঠানের দুরত্ব ততটা মানা হয় না।সামাজিক আইনের আওতায় এটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের উপ পরিদর্শক মোঃ জামাল উদ্দিন জানান, পরিদর্শনের সময় দুরত্ব ও জমির পরিমান সংক্রান্ত বিষয়ে ভুল তথ্য প্রদান করে অনেক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুমোদন নেওয়ার চেষ্টা করে।তবে যে কোন বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেই সরকারি নিয়ম অনুসরন করতে হবে।
বার্তাবাজার/পি