স্বাধীনতার ৫০ বছর পর নান্দাইলে বধ্যভূমি স্মৃতিফলক
৭১-এ পাকবাহিনীর হাতে নৃশংসভাবে বহু মানুষ শহীদ হওয়া ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি বিজড়িত শুভখিলা বধ্যভূমিটি স্বাধীনতার ৫০ বছর পর একটি স্মৃতিফলক উদ্বোধন হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বহু কাঙ্খিত এই স্মৃতি ফলকটি উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন। উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে এ স্মৃতিফলকটি নির্মিত হয়েছে। ফলকটির অবস্থান নান্দাইল উপজেলার মুশুলী ইউনিয়নের শুভখিলা গ্রামে। উদ্বোধনের পর প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ ছাড়াও শহীদদের স্মরণে দোয়া পড়ানো হয়।
জানা গেছে, শুভখিলা এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলওয়ে সড়ক। সেই সড়কে রয়েছে একটি সেতু। সেতুটির অবস্থান নরসুন্দা নদীর ওপর। স্মৃতিফলকটি সেতুর পাশেই নির্মান করা হয়েছে। যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে এই সেতুর ওপর হাত ও চোখ বেধে হত্যা করে খরশ্রোতা নদীর পানিতে লাশ ভাসিয়ে দিত পাকবাহিনীরা। স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় নির্বিঘ্নেই এই হত্যাযজ্ঞ চালানো হতো। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে মেজর হায়নাদারের নেতৃত্বে দেশপ্রেমিক জনগণ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে শুভখিলা রেল সেতুটি ডিনামাইট দিয়ে ধ্বংস করেছিল।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পাকিস্তানি বাহিনী ওই দিন আশপাশের বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। তারপর সেখানে বাংকার তৈরি করে অবস্থান নেয়। পাশেই গড়ে তোলা হয় মানুষ জবাই করার কসাই খানা। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, পাকিন্তানিদের প্রবেশ রুখতে শুভখিলা রেলসেতু ধ্বংস করেও পাকিস্তানিদের প্রবেশ রোখা যায়নি। পাকিস্তানিরা ট্রেন থামিয়ে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। পরবর্তীতে রেল সড়কটি মেরামত করে চলাচল শুরু করে পাকিস্তানিরা। যুদ্ধকালীন সময় ট্রেন যোগে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষকে রেল সেতুতে নিয়ে আসা হতো। মুক্তিকামী ও সাধারণ মানুষ ভর্তি ট্রেন গুলো থামার পর বাঁচার জন্য আত্মচিৎকার শুরু করতো। কিন্তু নিমিষেই গুলির মুর্হুমুহু শব্দে মিলিয়ে যেতো সেই আত্মচিৎকারের আওয়াজ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নান্দাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ জুয়েল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাজহারুল হক ফকির, ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ সহ মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী।
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এরশাদ উদ্দিন বলেন, এই স্থানটিতে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে হাজার হাজার মানুষ নৃশংসভাবে গণহত্যার শিকার হয়েছে। সেই স্মৃতি ধরে রাখার জন্য নান্দাইল উপজেলা প্রশাসন রেল সেতুর কাছে এই স্মৃতি ফলক তৈরি করেছে। এর ফলে বর্তমান প্রজন্ম স্বাধীনতার ইতিহাস জানার সুযোগ পাবে।
মজিবুর রহমান ফয়সাল/বার্তাবাজার/পি