মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি: নেই প্রশাসনের নজরদারী, তৎপর পুলিশ বাহিনী

বিশ্বব্যাপি প্রানঘাতি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সারাদেশের ন্যায় শর্তস্বাপেক্ষে গত সেপ্টেম্বার হতে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সকল হাট-বাজারগুলোতে কেনা বেচার জন্য খুলে দেয়া হয় হাট-বাজার ও দোকান পাট। সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী শর্ত অনুসারে মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্ব সাধারকে পরামর্শ দেয়া হয়।

এছাড়াও করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন অফিস-আদালত এমনকি হাট বাজার ও বিপনীর দোকান পাটগুলোতে নো মাস্ক নো সার্ভিস নীতি গ্রহণ করে প্রসাশন। উদ্দেশ্য ছিল মাস্ক পরিধান না করলে সেবা মিলবে না।

শর্ত অনুযায়ী প্রতিটি সরকারী-বেসরকারী অফিস, হাট বাজারগুলোতে, বিভিন্ন বিপনীতে নো মাস্ক নো সার্ভিস সম্বলিত পোষ্টার লক্ষ্য করা গেছে তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাস্ক ছাড়াই এই সকল প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা প্রত্যাশিরা সেবা নিতে দেখা গেছে। এখনও তৈরি হয়নি মার্কেটের প্রবেশ পথে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, উপজেলার প্রধানতম ও অন্যতম দুইটি মার্কেট সারদা বাজার ও চারঘাট বাজারে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন অফিস যেমন উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানা, পল্লি বিদ্যুত সমিতিতে হাত ধোয়ার সুব্যবস্থা থাকলেও নেই সাবান বা হ্যান্ড ওয়াশের ব্যবস্থা। ফলে সেবা নিতে আসা অনেকের হাত ধোয়ার ইচ্ছা থাকলেও না ধুয়ে অফিসগুলোতে পরিদর্শন করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার (২৫ই মার্চ) উপজেলার চারঘাট ও সরদহ বাজারের বিপণীগুলোতে মানুষজনের প্রচন্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে সামাজিক দুরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধির কোন বালাই লক্ষ্য করা যায়নি। এমনকি খুবই স্বল্প কয়েকজনকে মাস্ক পরিধান করতে দেখা গেছে।

প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে আগের মতই গ্রামীন পরিবহনগুলোর চলাচল দেখা গেছে। একই অবস্থা দেখা গেছে উপজেলার নন্দনগাছী বাজার, কাঁকড়ামারী বাজার, ডাকরা, রুস্তমপুরহাটসহ ছোট-বড় সকল হাট-বাজারগুলোতে। বেশিরভাগ মানুষের মুখে নেই মাস্কসহ সুরক্ষা সামগ্রী।

মার্কেটগুলোতে প্রবেশপথে নেই কোন হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, কয়েকটি বিপনী বিতানের সামনে দেখা গেলেও ব্যবহারে আগ্রহ নেই ক্রেতাদের। একই দোকানে গাদাগাদি করে করছে কেনাকাটা।কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাড়াতে বা বসতে বললেও তারা কোন কর্ণপাত করেন না। বিক্রয় কমে যাওয়ার ভয়ে তারা ক্রেতাদের সেভাবে চাপ দিতে পারেন না বলে জানান। তাছাড়াও দোকানপাট ছোট হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা সম্ভবপর হচ্ছে না।

তবে এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা সামিরা বলেন, সরকারী নির্দেশিকা মেনে উপজেলার হাট-বাজারগুলোর বিপনীবিতানগুলো খুলতে বলা হয়েছে। সচেতনতার জন্য নির্দেশিকা সম্বলিত ব্যপক প্রচারের জন্য মাইকিং করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাট-বাজারগুলোতে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অপর দিকে সম্প্রতি চারঘাট মডেল থানার উদ্যোগে মাস্ক বিতরণ কর্মসূচী ও মাস্ক পরিধানে নির্দেশনা প্রদানে মাইকিং সহ বিভিন্ন প্রচার প্রচারণা করতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মহামারি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাড়ির বাহিরে গেলে মাস্ক বাধ্যতামূলক এবং জনগনকে সচেতনা করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি, তবু্ও যদি কেউ এই নির্দেশ অমান্য করে তাহলে পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মোঃ নবী আলম/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর