দেশে ফোর-জি সেবার নাম করে দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে না দেশের চার মোবাইল অপারেটর কোম্পানির কেউই।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসির এক জরিপে তাদের এই প্রতারণার ছিত্র ফাঁস হয়েছে। কিন্তু সেবা পেতে গ্রাহকরা ঠিকই অর্থ ব্যয় করে আসছে।
গত ২৩ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকায় এই জরিপটি চালানো হয়। বুধবার (২৪ মার্চ) ফলাফল প্রকাশ করে বিটিআরসি।
প্রকাশিত জরিপ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রাহকরা ফোর-জি সেবায় ৩ থেকে ৬ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট পাচ্ছেন। অথচ বিটিআরসির মান অনুযায়ী, ফোরজি সেবায় গ্রাহকদের ইন্টারনেটের গতি সর্বনিম্ন ৭ এমবিপিএস রাখতে হবে।
জরিপে দেখা যায়, ফোর-জিতে ডাউনলোডে প্রতি সেকেন্ডে গ্রামীণফোন ও রবির গতি ছিল ৫ দশমিক ৭২ এমবিপিএস। বাংলালিংকের গতি ছিল সেকেন্ডে ৪ দশমিক ৯৪ এমবিপিএস। আর রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটকের গতি ছিল ২ দশমিক ৮২ এমবিপিএস। অথচ নীতিমালা অনুযায়ী সর্বনিম্ন ডাউনলোডের গতি হতে হবে সর্বনিম্ন ৭ এমবিপিএস। ডাউনলোডে পিছিয়ে থাকলেও ফোর-জিতে আপলোডের ক্ষেত্রে এগিয়ে অপারেটররা।
বিটিআরসির নীতিমালা অনুযায়ী ফোরজিতে সেকেন্ডে এক এমবিপিএসের চেয়ে বেশি গতি থাকতে হবে। তবে জরিপে দেখা গেছে গ্রামীণফোন ১০, রবি ১২ দশমিক ৬৯, বাংলালিংক ১০ দশমিক ৭২ ও টেলিটক ৪ দশমিক ৫২ এমবিপিএস গতিতে সেবা দেয়। তবে থ্রিজি সেবার ক্ষেত্রে ভালো করছে তিন বেসরকারি অপারেটর।
থ্রি-জি সেবায় গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট গতি ছিলো সেকেন্ড ৩ দশমিক ৯৬ এমবিপিএস। রবির ৪ এমবিপিএসের বেশি। বাংলালিংকের ৩ দশমিক ৯৯ এমবিপিএস। তবে থ্রিজিতেও পিছিয়ে রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটক। থ্রি-জিতে টেলিটকের ইন্টারনেটের গতি সেকেন্ডে ১ দশমিক ৭৪ এমবিপিএস। নীতিমালা অনুযায়ী সর্বনিম্ন গতি দুই এমবিপিএস রাখতে হয়।
থ্রি-জিতে আপলোডের ক্ষেত্রে গ্রামীণফোনে গতি ৭ দশমিক ৮৪, রবিতে ৯ দশমিক ৪৩, বাংলালিংকে ৮ দশমিক ৪৫ এবং টেলিটকে ২ দশমিক ৩১ এমবিপিএস।
বার্তাবাজার/এসজে