আশুগঞ্জে ধান-চালের বড় মোকাম, তবুও কমছে না চালের দাম!

আশুগঞ্জে গত কয়েক দিনে হু হু করে বেড়েছে চালের দাম। এতে দূর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। সব ধরণের চালের বস্তা প্রতি বেড়েছে ১০০/১৫০ টাকা। দাম বৃদ্ধির জন্য খুচরা ব্যবসায়ীরা মিল মালিক ও আড়তদারদের দায়ী করছেন। তবে মিল মালিকরা বলছেন, পাইকারী বাজারে দাম তেমন না বাড়লেও খুচরা ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামত দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের অভিযোগ সঠিক না।

এদিকে, চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিভাগ।

হাওর অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ধান-চালের মোকাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ হলেও চলতি মাসের গত দু’সপ্তাহে আশুগঞ্জের হাট বাজারে বেড়েছে চালের দাম। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজিতে ১/২ টাকা বাড়লেও খুচরা বাজারে বেড়েছে ৪/৫ টাকা। পাইকারী বাজারে (বিআর-২৮) দু’সপ্তাহ আগে ২৬’শ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ২৭’শ টাকা বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। যা খুচরা বাজারে ২৮’শ থেকে ২৯’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই ভাবে বিআর-২৯, মিনিকেট, দেশী নাজির ও মোটা চাল প্রতি কেজিতে ১/২ টাকা করে বাড়লেও খুচরা বাজারে বেড়েছে ৩/৫ টাকা।

চালের দাম দাম বৃদ্ধির জন্য খুচরা ব্যবসায়ীরা মিল মালিক ও আড়তদারদের দায়ী করছেন। তারা বলছেন, আড়তদাররা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করায় চালের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে, আড়তদাররা বলছেন, পাইকারি বাজারে সাথে খুচরা বাজারে কোন সম্পর্ক নেই। পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি ১/২ টাকা বাড়লেও খুচরা বাজারে বাড়ে কয়েকগুন। এছাড়া মোকাম থেকে প্রতি মন ধান ১৪’শ টাকা কিনে প্রক্রিয়া শেষে প্রতি মন চালের দাম পড়ে ২৮’শ টাকা। প্রতি বস্তায় ৩’শ টাকা গচ্ছা দিতে হচ্ছে তাদের। এছাড়া মৌসুম না থাকায় মোকামে কমে গেছে ধানের আমদানি। তবে খাদ্য বিভাগ জানিয়েছেন, বাজার স্বাভাবিক রাখতে ওএমএস কার্যক্রমের পাশাপাশি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর আওতায় ৭৮ হাজার ভোক্তাকে চাল সরবরাহ করা হচ্ছে।

মিল মালিকদের কারসাজির বিষয়টি অস্বীকার করে আশুগঞ্জ উপজেলা চাতাল কল মালিক সমিতি সভাপতি জোবায়ের হায়দার বুলু বলেন, মিল ও আড়তগুলোকে ধান ও চাল মজুদ নেই। আর যেগুলো আছে বাজারের অস্থিতিশীল অবস্থার কারনে অবিক্রিত রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সুবীর নাথ বার্তা বাজারকে জানান, বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে মাঠ পর্যায়ে ১৯টি মনিটরিং টিম কাজ করার কথা রয়েছে। ওএমএসসহ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী শুরু হয়েছে। পাশাপাশি চালের মূল্য নিয়ন্ত্রনে আনতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হবে।

প্রশাসনের যথাযথ অভিযানে চালের বাজারের মূল্য দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে এই প্রত্যাশা সাধারণ ভোক্তাদের।

উল্লেখ্য, দেশের হাওর অঞ্চলের উৎপাদিত ধান আশুগঞ্জের ৪ শতাধিক চাতালকলে প্রক্রিয়াজাত করে চাউলে রূপান্তর করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর ও ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে এসব এলাকার চাউলের চাহিদা পুরণ করে থাকে।

সন্তোষ চন্দ্র সূত্রধর/বার্তাবাজার/হৃ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর