বঙ্গবন্ধুকে স্বচক্ষে দেখা শতবর্ষী বৃদ্ধদের বাড়িতে ফল-ফুল নিয়ে হাজির ওসি
বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে স্বচক্ষে দেখা শতবর্ষীদের বাড়ীতে বাড়ীতে ফল, ফুল ও মুজিববর্ষের ক্রেস্ট নিয়ে হাজির হয়েছেন থানার ওসি। এ ধরণের ব্যতিক্রম উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ তারিকুজ্জামান।
তিনি বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বচক্ষে দেখা উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের নারুয়া গ্রামের ১১৩ বছর বয়সী আফসার বিশ্বাস, মধুপুর গ্রামের ১২০ বছর বয়সী জন জোয়াদ্দার, নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের ১০২ বছর বয়সী অবসর পুলিশ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক, বহরপুর ইউনিয়নের ইলিশকোল গ্রামের ১০২ বছর বয়সী কালিপদ সোম, কুবদী গ্রামের ১০৮ বছর বয়সী ছকিনা বেগমের বাড়ীতে গিয়ে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ফুল, ফল ও ক্রেস্ট প্রদান করেন।
এসময় শতবর্ষী বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা আবেগে আপ্লুত হয়ে জড়িয়ে ধরে দোয়া করেন। এসময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল কালাম আজাদ, বালিয়াকান্দি থানার ওসি তারিকুজ্জামান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন কুমার আদিত্য, নবাবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসান আলী, নারুয়া বাজার বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গণি শেখ, সোনাপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আজিজ ইকবাল, থানা পুলিশের সদস্য, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
নারুয়া ইউনিয়নের নারুয়া গ্রামের ১১৩ বছর বয়সী আফসার বিশ্বাস বলেন, বঙ্গবন্ধুকে আমি কাছ থেকে দেখেছি। তার জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে একজন ওসি আমাকে দেখতে এসেছেন ফল, ফুল ও ক্রেস্ট নিয়ে আমি চির কৃতজ্ঞ। এটাই আমার জীবনের শেষ সময়ে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
মধুপুর গ্রামের ১২০ বছর বয়সী জন জোয়াদ্দার বলেন, আমি ওসি সাহেবকে দোয়া করি, যেন তিনি ভাল কাজ করে যেতে পারেন। আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়ে আমার বার্ধক্যকে যেন আরো উজ্জীবিত করেছেন।
নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের ১০২ বছর বয়সী অবসর পুলিশ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক বলেন, আমি একজন পুলিশ সদস্য হিসেবে আজ নিজেকে গর্ববোধ করতে পারছি। জীবনের শেষ সময়ে থানার ওসি সাহেব আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে আমাকে সম্মানিত করলেন এটাই আমার কাছে অনেক পাওয়ার।
বহরপুর ইউনিয়নের ইলিশকোল গ্রামের ১০২ বছর বয়সী কালিপদ সোম, কুবদী গ্রামের ১০৮ বছর বয়সী ছকিনা বেগম ফল, ফুল ও মুজিব শতবর্ষের ক্রেস্ট পেয়ে আবেগে বঙ্গবন্ধুর নানা স্মৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
নবাবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হাসান আলী বলেন, বালিয়াকান্দি থানার ওসি যোগদানের পর থেকেই মামলা করতে কোন টাকা লাগে না, মাধ্যম ছাড়া থানায় যেতে হবে, নিজের কথা নিজে বলতে হবেসহ মানবিক কাজে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন। আজ উপজেলার মানুষ শান্তিতে রয়েছেন। মুজিব শতবর্ষে শতবর্ষীদের বাড়ীতে ফুল, ফল, ক্রেস্ট নিয়ে হাজির হয়ে আরেকটি প্রশংসার কাজ করেছেন।
বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ তারিকুজ্জামান বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী। আমরা এসকল শতবর্ষী মানুষদের মাঝে বঙ্গবন্ধুকে খুজে ফিরতে স্বচক্ষে দেখা ব্যক্তিদের বালিয়াকান্দি থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বাড়ী বাড়ী গিয়ে সম্মাননা প্রদান করেছি মাত্র। সেই সাথে তাদের খোজখবর নিয়েছি। আমি যতদিন থাকবো, তত দিন এসকল শতবর্ষী মানুষের বাড়ী বাড়ী গিয়ে প্রতিনিয়তই খোজ নিবো।
বালিয়াকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, থানার ওসি সাহেব মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা প্রশংসার দাবীদার। সমাজে ভালো কিছু করার যে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে তা বিরল দৃষ্টান্ত। তার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
মেহেদী হাসান রাজু/বার্তাবাজার/পি