ইন্টারনেট ব্যবহৃত মোবাইল গেম, নিচ্ছে ভয়ানক রূপ
মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনেক দিন বন্ধ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বেশীর ভাগ সময় কাটছে শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে। শিক্ষার্থীরা কেউ ঠুকে পড়েছে কর্ম জীবনের তাগিদে।
কিন্তু কেউ সংসারের অভাব মেটাতে কর্ম জীবনে জড়িয়ে পড়লেও কিছু কিছু শিক্ষার্থী জড়ে পড়েছে অসামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে। এদের মধ্যে কেউ আবার নেশায় মত ভয়ানক ইন্টারনেট ব্যবহৃত ফ্রি ফায়ার গেমে ঝুঁকে পড়েছে। এটা এখন শহরে নয় গ্রামের শিশু শিক্ষার্থীরাও দিন দিন ফ্রি ফায়ার নামক গেমের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে।
তেমনি যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে এ মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহৃত গেমের প্রতি আসক্তি সংখ্যা।
নিয়মিত গেম খেলে এমন একজনে সাথে গেমের সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, ফ্রি ফায়ার গেম আগে তেমন খেলতাম নাহ। কিন্তু বর্তমান ফ্রী ফায়ার গেমে অনেক আসক্তি হয়ে পড়েছি। চেষ্টা করে ও ফ্রী ফায়ার গেম থেকে সরে আসতে অসম্ভব হয়ে পড়েছি। এ পর্যন্ত আমি অনেক লেভেল পার করেছি এবং এ খেলায় আমার অনেক অর্থ ব্যয় হয়। আমি ফ্রি ফায়ার গেমে অর্থ দিয়ে ডায়মন্ড কিনেছি।
৯ম শ্রেনির শিক্ষার্থী মামুন বলেন, আগে ফ্রি ফায়ার গেমস সম্পর্কে আমি কিছু জানতাম না। এখন আমি নিয়মিত গেম খেলি এবং মাঝে মধ্যে গেম খেলতে না পারলে মুঠোফোনটি ভেঙে ফেলার ইচ্ছা হয়। ফ্রি ফায়ার গেম যে একবার বুঝবে সে আর ছাড়তে পারবে না বলে এমনটাই দাবি তার।
কয়েকজন অভিভাবকরা বলেন, স্কুল কলেজ বন্ধ প্রায় ১ বছর সন্তানরা লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছে। আর মোবাইলে নানান গেম খেলে সারাদিন সময় কাটাচ্ছে যা আসক্তি রূপ নিয়েছে। হয়তো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে এভাবে মোবাইলে সময় দিতে পারতেন না। ফলে আমরা অভিভাবকরা স্বস্তি ফিরে পেতাম। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করবো আমাদের ছেলে- মেয়েদের আবার শিক্ষা জীবনে ফিরিয়ে নেন।
এই বিষয়ে উপজেলার নিজামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, এসময় শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত থাকবে পড়া-লেখাসহ শিক্ষা পাঠক্রম গ্রহণ নিয়ে ও খেলার মাঠে। সেখানে তারা ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে জড়িয়ে পড়ে আসক্ত হচ্ছে বিভিন্ন গেমে। তাই এসব বিদেশী গেম থেকে শিক্ষার্থী বা তরুণ প্রজন্মকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ বিষয়ে সকল পরিবারের অভিভাবকদের শিশুদের প্রতি বাড়তি নজর দিতে হবে। না হলে একসময় মাদকের থেকে ও এসব ইন্টারনেট ব্যবহৃত মোবাইল গেম বেশি ভয়ানক হয়ে উঠবে।
শার্শা উপজেলা তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক কর্মকর্তা আহসান কবির বলেন, শিক্ষার্থীরা বর্তমানে এ ফ্রি ফায়ার নামক গেমটিতে খুব বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছে এবং অনেকেই এর পিছনে অর্থ ব্যয় করছে। অভিভাবকসহ সমাজের সকলে মিলে এ বিষয়ে তদারকি না করলে ভবিষ্যতে ফ্রি ফায়ার নামক গেম মাদক নেশার চেয়ে ভয়ঙ্কর হবে। এ বিষয়ে যে যার স্থান থেকে সকলেই এগিয়ে আসার আহবান জানানও তিনি।
বার্তাবাজার/পি