নাটোরের সিংড়া উপজেলার ৩নং ইটালী ইউনিয়নের বনকুড়ি গ্রামের শালমাড়া মৌজায় ফসলি জমি গিলে খাচ্ছে পুকুর।
আবাদী জমি কেটে অনুমোদন ছাড়াই অবৈধ ভাবে এবং প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কতিপয় স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাছ চাষের জন্য ফসলি জমিতে ইচ্ছে মতো পুকুর খনন করছে। অন্যদিকে পুকুর খনন করার পর তোলা মাটি বিক্রি করা হচ্ছে।এতে ক্রমেই কমছে চাষের জমি।
শ্রেণিভেদে প্রায় সব জমিতেই সারা বছরই কোন না কোন ফসলের আবাদ হয়। কিন্তু অবৈধ পুকুর খননের ফলে, সিংড়া উপজেলায় ইটালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে দিনের পর দিন ফসলি জমির পরিমাণ কমছে আর বাড়ছে পুকুরের সংখ্যা।
সরজমিন পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, এই উপজেলায় ছোট-বড় সব মিলিয়ে হাজার হাজার পুকুর রয়েছে। এরপরও ঊর্বর ফসলি জমি কেটে আশঙ্কা জনকহারে পুকুর খনন করা হচ্ছে। প্রভাবশালীদের দাপটে পর্যায়ক্রমে ফসলের জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের কারনে বর্তমানে ফসল উৎপাদন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ঝামেলাহীন অর্থ উপার্জনের চেষ্টাই ফসলি জমিতে বাধ্য হয়ে আমাদের পুকুর খনন করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক কৃষক।
ড্রাম ট্রাকের মাটি আর ধুলার আস্তরণে বেহাল হচ্ছেন গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলো। নানাভাবে স্থানীয় কিছু ভূমি অফিসকে ম্যানেজ করে চলছে এসব পুকুর খনন কাজ। এ কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। একের পর এক খনন করা পুকুরে গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি।
কৃষকরা জানান, উৎপাদনে যথেষ্ট শ্রম ব্যয় করেও কাঙ্খিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই লাভের আসায় পুকুর খনন করে তুলনামূলক ঝামেলাহীন অর্থ উপর্জনের চেষ্টা করছেন। এ সব পুকুরে তারা নিজেরা মাছ চাষ করছেন, আবার কেউবা অর্থের বিনিময়ে মাছ চাষিদের কাছে লিজ দিচ্ছেন। এদিকে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে বর্ষা মৌসুমে পানি নিস্কাশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বাড়ে জনদুর্ভোগ।
মাছ চাষিরা জানান, এই শুকনো মৌসুমে পুকুর তৈরি করা অনেকটা সহজ। তাই এখন তারা পুকুর তৈরি করছেন মাছ চাষের জন্য। আগে পুকুর খনন করতে অনেক সময় লাগতো। কিন্তু এখন প্রযুক্তির ব্যবহারে ভেকু দিয়ে দ্রুত একটি পুকুর খনন করা যায়।
প্রতিবছরই বাড়ছে পুকুরের পরিধি, কমে যাচ্ছে ঊর্বর আবাদি জমি। একই সঙ্গে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করা হচ্ছে। ওই জায়গার মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দূর দূরান্ত কোনো জায়গায়।
জানতে চাইলে নাটোর জেলা প্রশাসক জানান, এ বিষয়ে শুনেছি। অবশ্যই অভিযান চালানো হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, কোথাও আবাদি জমি কেটে পুকুর খননের কথা শুনলে আমরা সাথে সাথে ঘটনা স্থলে গিয়ে ভেকুর ব্যাটারি জব্দ করি এবং কাজ বন্ধ করে দেই, পরবর্তী অনেকেই রাতের আধারে পুকুর খননন করছে বলে আমরা জানতে পারি সাথে সাথে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
রবিন খান/বার্তাবাজার/পি