জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক সমিতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রকার পদক্ষেপ নেই সমিতির। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিই এখনো রয়েছে সমিতির কার্যকরী সংসদের দায়িত্বে। এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে। আবারও বিভক্তি দেখা দিয়েছে শিক্ষক নেতাদের মধ্যে।
যদিও শিক্ষক সমিতি দোহাই দিচ্ছে করোনাকালীন সরকারী নির্দেশনার। তবে শিক্ষক সংগঠনের নেতাদের দাবি করোনার অজুহাতে মেয়াদোত্তীর্ণ এই কমিটি ক্ষমতা আকড়ে ধরে রেখেছে।
শিক্ষক সমিতি সূত্রে জানা যায়, গতবছর ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে অংশ নেই আওয়ামীপন্হী শিক্ষকদের ৩ প্যানেল। নির্বাচনে নীলদলের একাংশ পায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সর্বমোট ১৫টি পদের ১৪টি পদ পান, বাকি ১টি পদ পান নীলদলের অপরাংশ। শিক্ষক সমিতির বর্তমান নেতৃবৃন্দের অংশের নীলদলটি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড .মীজানুর রহামানের বিশেষ আস্থাভাজন বলে পরিচিত ছিলেন।
তবে নির্বাচনের বিষয়ে ক্যাম্পাস খোলার জন্য অপেক্ষা করছেন বলে জানান শিক্ষক সমিতির বর্তমান নেতারা। তারা বলছেন, সম্প্রতি অনলাইনে এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমেই তারা ক্যাম্পাস খোলার পর নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারী তেমন কোনো নির্দেশনা না থাকায় নির্বাচন করছেন না বলে জানান তারা।
যদিও সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী ক্যাম্পাসে শুধু ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে, তবে ক্যাম্পাসে বিভাগীয় ও দাপ্তরিক সকল কাজ সচল থাকবে। সে অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল দপ্তর ও বিভাগীয় কাজ অব্যহত আছে। এছাড়াও করোনা উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন জাতীয় উৎসবেও অংশ নিচ্ছেন শিক্ষকসমিতি ও এর সদস্যরা। বিভিন্ন ইস্যুতে করছেন মানববন্ধনও।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন। গতবছর ২৮ ডিসেম্বর হয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন, গত ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন হয়েছে ১৫ মার্চ , ২৪ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন।
বিশ্ববিদ্যালয় নীল দলের (সনাতন) সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, সাধারণত নিয়মানুযায়ী ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকে।যেহেতু করোনা সবকিছুর উর্ধ্বে তাই বর্তমান কমিটি হয়তো অনলাইনে একটা মিটিং করে বৈধতা নিয়েছে কমিটির, তবে মোট ভোটার তো ৭০০ অনলাইন মিটিং এ তো সবাই আর উপস্থিত হতে পারেন নাই।তবে এখন তো বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজকর্ম চলছে,শিক্ষক সমিতিও বিভিন্ন প্রোগ্রাম করছে, তাহলে নির্বাচন দিতে সমস্যা কোথায়? আর নির্বাচন টা তো শিক্ষকদের,সব শিক্ষকই তো প্রতিদিনই ক্যাম্পাসে আসছেন।
নীল দলের অপরাংশের সভাপতি অধ্যাপক ড. জাকারিয়া মিয়া বলেন, শিক্ষক সমিতির নির্বাচন নিয়ে শিক্ষক সমিতি ভাববে,নীল দল তো ভাববে না। আর একটা সাধারণ সভা হয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর নির্বাচন হবে, আমরাও এ সিদ্ধান্ত সমর্থন করি।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নূর আলম আবদুল্লাহ বলেন, আমরা নভেম্বর এ একটা সাধারণ সভা করেছি। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় খুলে না দেয়া পর্যন্ত এ কমিটির মেয়াদ থাকবে।
নীল দলের একাংশের অংশের বক্তব্যের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমরা মনে করি করি এখন নির্বাচন করলে সরকারের নির্দেশ অমান্য করা হবে।
বার্তাবাজার/এসজে