ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার সাখুয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবুল কালামের বিরুদ্ধে চার বছরের পুরাতন কয়েকটি টিউবওয়েলে নতুন ফলক সাঁটিয়ে অভিনব কায়দায় এলজিএসপি-৩ এর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ইউএনও,র কাছে অভিযোগ করায় অভিযোগকারীকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন ওই ইউপি সদস্য। এমন ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করলেও গত ২২ দিনেও কোন ব্যবস্থা নেননি প্রশাসন।
চার বছর আগে ১০ হাজার টাকায় সরকারি বরাদ্দের টিউবওয়েল পেয়েছিলেন উপজেলার সাখুয়া ইউনিয়নের আখরাইল নামাপাড়া গ্রামের মৃত সমর আলীর ছেলে কাজল মিয়া, মৃত কিতাব আলীর ছেলে আলাল উদ্দিন ও আছাদুল ইসলামসহ অস্বচ্ছলরা। তবে দিনমজুর রইছ উদ্দিন স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারের মাধ্যমে সরকারি টিউবওয়েল না পেয়ে, সমিতির ঋনের টাকায় পাঁচ বছর আগে নিজ বাড়িতে স্থাপন করেছিলেন একটি টিউবওয়েল।
মাস দেড়েক আগে দিনমজুর রইছ উদ্দিনের ব্যক্তি মালিকানা টিউবওয়েলসহ বেশ কয়েকটি পুরাতন টিউবওয়েলে এলজিএসপি-৩ এর ফলক সাঁটিয়ে দেন ওই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম। কারন হিসেবে ওই ইউপি সদস্য তাদের জানিয়েছিলেন সরকারি বরাদ্দ আসবে। পরে তারা জানতে পারেন, এলজিএসপি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পুরাতন টিউবওয়েলে নতুন ফলক সাঁটানো হয়েছে।
গত ১ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে ইউপি সদস্য আবুল কালামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন স্থানীয় কাজল মিয়া, আলাল উদ্দিন ও রইছ উদ্দিন। একই সঙ্গে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ গোলাম ইয়াহিয়াকে অবগত করেন। অভিযোগের পর ২২ দিন পেরিয়ে গেলেও ওই ঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কিংবা উপজেলা প্রশাসনের কেউ-ই কোন ব্যবস্থা নেননি বলে জানান স্থানীয়রা।
এদিকে ইউএনও বরাবর অভিযোগ করার জেরে ওই ইউপি সদস্য অভিযোগকারী কাজল মিয়াকে গত বৃহস্পতিবার একটি মারামারি মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে সোমবার মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন কাজল মিয়া। তিনি আরো জানান, মামলায় আটকের ভয়ে ক’দিন যাবত বাড়ি ছাড়া তিনি।
সরেজমিন আখরাইল নামাপাড়া গ্রামের কয়েকটি বাড়ি ঘুরে দেখা যায়, পুরনো টিউবওয়েলে নতুন করে লাগানো হয়েছে এলজিএসপি-৩ এর ফলক। ফলক সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এলজিএসপি-৩ এর বাস্তবায়নকাল ছিল-২০২০-২১। যার প্রকল্প সভাপতি আবুল কালাম ইউপি সদস্য এবং তা উদ্বোধন করেন ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ গোলাম ইয়াহিয়া।
স্থানীয় কাজল মিয়া, আলাল উদ্দিন, আছাদুল ইসলাম ও রইছ উদ্দিনসহ অন্যরা জানান, ইউপি সদস্যের এমন কান্ডে গত ২২ দিন আগে ইউপি সদস্য আবুল কালামের দুর্নীতির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে জন্য একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো ওই ঘটনায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
মারামারির ঘটনাস্থল বালীর বাজার মোড়ের ব্যবসায়ি ও প্রত্যক্ষদর্শী শাহাবুদ্দিন জানান, মেম্বারের সঙ্গে মাজিদ পাগলার মারামারি হয়েছে। ঘটনাস্থলে কাজল মিয়া ছিলনা। হয়রানি করতেই মামলায় তার নাম দেয়া হয়েছে।
এব্যাপারে ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, ফলকগুলো আমি এমনিতেই লাগিয়ে ছিলাম। খুলে ফেলবো। এটা এলজিএসপি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের কোন ঘটনা নয়। আমাকে মারধরের ঘটনায় কাজল জড়িত।
তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তানভির জানিয়েছেন, মারামারির ঘটনার সঙ্গে কাজল মিয়া জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মেম্বারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিলেও অনেক আগেই বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন স্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ গোলাম ইয়াহিয়া বলেন, মেম্বার সাহেব কি কারনে পুরাতন টিউবওয়েলে এলজিএসপি প্রকল্পের ফলক লাগিয়েছে তা জানা নেই। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এব্যাপারে ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়েছি অনেক আগে। বিভিন্ন ঝামেলার কারনে খোঁজ নেয়ার সুযোগ হয়নি। সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতিউর রহমান সেলিম/বার্তাবাজার/পি