সম্পত্তি লিখে নিয়ে বৃদ্ধা মাকে মারধর, থানায় অভিযোগ

বগুড়ার শেরপুরে চকধলী গ্রামে সম্পত্তি লিখে নিয়ে ভরণপোষন না করা ও মায়ের করা দলিল বাতিলের মামলা তুলে না নেয়ায় ৮০ বছরের অসুস্থ বৃদ্ধা মা আয়েশা বেওয়াকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় (২৩ মার্চ) মঙ্গলবার বিকেলে মা বাদি হয়ে শেরপুর থানায় ৩ ছেলে, ২ নাতি ও ১ ভাতিজার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের চকধলী গ্রামের মহির উদ্দিন প্রামাণিক বসতবাড়িসহ আবাদি ৬০ শতক জমি রেখে বেশকিছুদিন আগে মারা যান। এরপর উত্তরসূরী হিসেবে ওই সম্পত্তির মালিক হন তার স্ত্রী আয়েশা বেওয়া। মাকে ভরণপোষণের আশ্বাস দিয়ে গত আড়াই বছর আগে ওই সম্পত্তি লিখে নেন তাঁর ৩ ছেলে আল মাহমুদ মালু, শাহ আলী ও আবু হানিফ। কিছুদিন পর তাঁর ভরণপোষণ ও চিকিৎসার টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয়।

এতে ওই বৃদ্ধার চার মেয়ে ও জামাইরা প্রতিবাদ করেন। চার মেয়ের মধ্যে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ঘর জামাই রাখেন। কিন্তু ভাইদের এসব কাজের প্রতিবাদ করার কারণে মেয়ে ও জামাইদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তাঁর ছেলেরা। এরই ধারাবাহিকতায় ঘর জামাই থাকা দুই মেয়ে ও জামাইদের উচ্ছেদ করার ঘোষণা দেন। তাই বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য সালিশী বৈঠক ডাকা হয়। কিন্তু কারো কোনো কথাই মানতে নারাজ তাঁর ছেলেরা। তাই গ্রামের মাতব্বরদের পরামর্শে দলিল বাতিল ও পারিবাড়িক সহিংসতা করার জন্য আদালতের দ্বাড়স্থ হন আয়েশা বেওয়া। বর্তমানে ওই মামলা দুটি চলমান রয়েছে।

মামলা তুলে নিতে তার ছেলেরা তাকে হত্যার হুমকি দেয়। মামল তুলে না নেয়ায় গত সোমবার ভোরে তার শয়নকক্ষে গিয়ে ছেলে ও নাতিরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথারী মারধর করে। পরে গুরুতর আহত আয়েশা বেওয়ার মেয়ের স্বামীরা তাকে উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে দেন। একটু সুস্থ হলে ২৩ মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে আয়েশা বাদি হয়ে শেরপুর থানায় তার ৩ ছেলে আল মাহমুদ ওরফে মালু, শাহ আলী, আবু হানিফ, নাতি, মুসা, আব্দুল কাদের ও ভাতিজা মোতালেবের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দারে করেন।

বৃদ্ধা আয়েশা বেওয়া জানান, ভরণপোষণ ও চিকিৎসার কথা বলে সম্পত্তি লিখে নিলেও এখন সবকিছুই দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তাই তাদের নামে দেওয়া সম্পত্তি আমি ফিরিয়ে নিতে আদালতে মামলা দায়ের করেছি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

রাশেদুল হক/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর