কুবি শিক্ষক মুর্শেদের প্রাচীন স্তম্ভ উদ্ধার
কাঠের তৈরি এক প্রাচীন স্তম্ভ উদ্ধার করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুর্শেদ রায়হান। গত ১৯ মার্চ কুমিল্লা জেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের ইটাল্লা গ্রামের এক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে পুকুর খনন করার সময় এক বিশাল কাঠের স্তম্ভ দৃশ্যমান হয়, পরবর্তীতে তিনি সেটা উদ্ধার করেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, কাঠের স্তম্ভটি পাওয়ার পর আমি তা সাথে করে নিয়ে আসি। নিয়ে আসার প্রধান কারণ হচ্ছে এটা সাধারন মানুষের কাছে থাকলে মানুষের অসতর্কতার কারণে এর ক্ষতি হতে পারে। তাছাড়া এরকম আর্কেওলজিক্যাল জিনিসের মালিক হচ্ছে রাষ্ট্র। আর এটা খুব দূর্লভ কারণ এরকম কাঠের এভিডেন্স বাংলাদেশে খুব কম পাওয়া গেছে। এটা খুব সুন্দর একটি প্রজেক্ট আর এখানে কাঠের কারুকার্য রয়েছে।
স্তম্ভটি সংরক্ষণের ব্যাপারে তিনি বলেন, এটি সংরক্ষণ করতে যে বিষয়টা দরকার তা হলো কেমিক্যাল প্রিজারভেশন। আর তাই কেমিক্যালের উপর নির্ভর করে মোটা অংকের ফান্ডের প্রয়োজন। এখানে ৮-১৫ লাখ টাকাও প্রয়োজন হতে পারে। আর আমরা যেটা পেয়েছি এটার কাঠের সাইজ অনেক লম্বা তাই এটাতে কি পরিমান কেমিক্যাল লাগবে এর বাজার দরের উপর নির্ভর করে বাজেট তৈরি করতে হবে। আর ফান্ডের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টা প্রশাসনকে একটা প্রজেক্ট হিসেবে উপস্থাপন করতে চাই যাতে ভালো প্রিজারভেশন করতে পারি।
যেহেতু এখন গ্রীষ্মকাল এবং সামনে বর্ষাকাল আসছে তাই কাঠের পানি বাষ্পীভূত হয়ে ফেটে যাওয়া রোধে আর্দ্রতা ঠিক রাখার জন্য পাটের চটে মুড়িয়ে পানি দিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে যতক্ষণ না পর্যন্ত এটাকে সম্পূর্ণরুপে সংরক্ষন করা যাচ্ছে ততদিন পর্যন্ত এটাকে মাটির নিচে রেখে পানি দিতে হবে। শীতকাল এটা সংরক্ষণের উপযুক্ত সময় বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া রিসার্চ প্রজেক্টের ওপর পাঁচথুবী ইউনিয়ন নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। তার রিসার্চের নাম ‘ইনভেস্টিগেশন এন্ড এক্সপ্লোরেশন অব আর্কিওলজিকাল রিমেইন্স: এন এক্সপ্লোরাটোরি রিসার্চ ইন পাঁচথুবী এন্ড সারাউন্ডিং রিজিয়নস অব কুমিল্লা’।
বার্তাবাজার/পি