স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও সিরাজদিখানে মুক্তিযুদ্ধের কোনো ভাস্কর্য নেই

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের দ্বারপ্রান্তে দেশ। প্রতি বছরের মত এবারও এই দিনটিতে লাল-সবুজের পতাকার জন্য জীবন দেওয়া লাখো শহীদের স্মরণে শ্রদ্ধার ফুল হাতে হাজারো মানুষ সমবেত হবে জাতীয় স্মৃতিসৌধে। ৫০ বছর একটি জাতির জীবনে দীর্ঘ সময় যেমন নয়, তেমনি খুব কম সময়ও নয়। মুক্তিযুদ্ধের ৪৯ বছরেও মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় স্মৃতিসৌধ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়নি। এ যেনো আলোর মাঝে অন্ধকার।

জেলার সরদ উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, জাতীয় পতাকার ভাস্কর্যসহ ইতিহাস ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে ভাস্কর্য, স্বাধীনত্রা স্মৃতিস্তম্ভ থাকলেও ঢাকার নিকটতম উপজেলা সিরাজদিখানে স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণউৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে মুক্তিযুদ্ধের কোনো স্মৃতিস্তম্ভ, ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়নি।

জানা য়ায়, দেশের প্রায়ই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণউৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, স্মৃতিস্তম্ভ থাকলেও শতবছরের পুরনো সরকারি ইছাপুরা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, মালখানগর হাই স্কুল, রাজদিয়া অভয় পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়সহ উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের কোথাও স্বাধীনতার ৪৯ বছরে নির্মিত হয়নি মুক্তিযুদ্ধের কোনো স্মৃতিস্তম্ভ,ভাস্কর্য। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭১’র স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ঐতিহ্যবাহী সরকারি বিক্রমপুর কেবি কলেজের ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষকরা প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠেছিল। অথচ স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই মুক্তিযোদ্ধের কোনো স্মৃতিস্তম্ভ, ভাস্কর্য।

নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে স্কুল কলেজসহ প্রতিটি ইউনিয়নে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য নির্মাণ করা উচিৎ। কারন দেশের লাখ লাখ ছাত্র-ছাত্রী আছে যাদের জন্ম স্বাধীনতার পর। অনেক ছাত্র-ছাত্রী আছে যারা মুক্তিযোদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানে না। বাবা মায়ের মুখে শুনেছে আর বইপত্রে পড়েছে। তাই প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণউৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ সুশীল সমাজ ও দেশ প্রেমিক জনগণ।

এ বিষয়ে সরকারি বিক্রমপুর কে,বি ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভি,পি ও রশুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চোকদার জানান, মুক্তিযোদ্ধে শহীদের স্মৃতিকে ধরে রাখতে বা স্বাধীনতাযুদ্ধ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে স্মৃতিসৌধ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্যে কয়েক বছর আগে উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় আমি প্রস্তাব করি, প্রস্তাবটি রেজুলেশ করাও হয়ে ছিলো। ততকালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে ছিলেন। উপজেলার মোড়ে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য নির্মাণের কথা থাকলেও তা আর হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম জানান, মুক্তিযোদ্ধের ভাস্কর্য না থাকা সত্যিই দুঃখজনক। আমি এখানে এসেছি ৪-৫ মাস হবে। যোগদানের পরে গত ১৬ ডিসম্বর বিজয় দিবসে উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ না থাকায় অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান করে বিজয় দিবসে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করি। তবে উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনের সামনে মুজিব বর্ষের মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ও বঙ্গবন্ধুর মূর‌্যাল নির্মাণ করার জন্যে উদ্যোগ গ্রহন করেছি।তিনি আশা প্রকাশ করেন আগামী বিজয় দিবসের আগেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ, ভাস্কর্য ও বঙ্গবন্ধুর মূর‌্যাল নির্মাণ করতে পারব।

মোঃ মিজানুর রহমান/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর