মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা সীমান্তে বিএেএফ এর গুলিতে নিহত বাংলাদেশী আব্দুল মুমিন বাপ্পা (৩০)-এর লাশ তিন দিনেও ফেরত দেয়নি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
এ দিকে বাপ্পার লাশ দেশে না আসায় তার স্বজনরা ও স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে আজ সোমবার দুপুরে বিজিবি ক্যাম্প ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে। এখন পর্যন্ত বাপ্পার স্বজনরা সেখানে অবস্থান করছেন।
স্বজনদের দাবি, আজকের মধ্যেই যেন বাপ্পার লাশ দেশে আনা হয়। এর আগে গত শনিবার নিহত যুবক বাপ্পার পিতা আব্দুর রউফ স্থানীয় ফুলতলা বিজিবি ক্যাম্পের সুবাদার বরাবরে লাশ ফেরত চেয়ে লিখিত আবেদন করলেও বিজিবির ওই কর্মকর্তা তাঁর আবেদন গ্রহণ করেননি।
স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বেলা ১টা থেকে ৩টার ভেতরে ভারত সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে লাশ ফেরত নিতে বিজিবিকে চিঠি দেয় বিএসএফ। তখন বিজিবি লাশ নেওয়ার বিষয়টি পরে বিএসএফকে জানাবে বলে পতাকা বৈঠক শেষ করে চলে আসে।
নিহত যুবক বাপ্পার পিতা আব্দুর রউফ বলেন, আমার ছেলের লাশ ফেরত চেয়ে গত শনিবার বিজিবির কাছে লিখিত আবেদন করলেও আবেদনটি গ্রহণ করেননি তারা। আমার ছেলের লাশ ফেরত চাই। ছেলের লাশ দেশে না আসায় পরিবারের সকল সদস্য ও আত্মীয় স্বজনরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের ৭নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মইনুদ্দিন ও ২নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ইমতিয়াজ আহমদ মারুফ জানান, লাশ দেশে না আসায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিক্ষুব্ধ হয়ে উত্তেজিত জনতা বিজিবি ক্যাম্পের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে। আমরা পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে বিজিবির-৫২ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার (সিইও) শাহ আলম সিদ্দিকী ক্যাম্পে এসে লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করবেন বলে আমাদের আশ্বস্থ করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে বিজিবির ফুলতলা ক্যাম্পের সুবেদার দেলোয়ার হোসেনকে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে বিজিবির-৫২ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার (সিইও) শাহ আলম সিদ্দিকী বলেন, ফুলতলা সীমান্তে একজন বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। কিছু আইনী জটিলতা থাকার কারণে নিহত যুবকের মরদেহ দেশে আসতে লেট হচ্ছে। ক্যাম্পের সামনে নিহত যুবকের বিক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসীর উত্তেজনার খবর শুনে আজ সরেজমিন সীমান্ত ক্যাম্পে এসেছি। তিনি আরো বলেন, উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর যৌথ পতাকা বৈঠক করে নিহত যুবকের মরদেহ দেশে আনা হবে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (২০ মার্চ) ভোররাতে জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের পূর্ব বিটুলী এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আব্দুল মুমিন বাপ্পা (৩০) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হন। শনিবার ভোররাতে ফুলতলা ইউনিয়নের পূর্ব বিটুলী এলাকায় কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে ইয়াকুব নগর এলাকায় ভারতীয় ১৮২২ নম্বর পিলারের কাছে বাপ্পার মরদেহ থাকতে দেখা যায়। নিহত যুবক বাপ্পা ফুলতলা ইউনিয়নের পূর্ব বিটুলী গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে। এদিকে প্রায় ২ বছর আগে একই স্থানে বাপ্পার চাচা আব্দুল কালাম ভারতীয় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন।
বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম