যৌতুকের মামলা তুলে নিতে গৃহবধূকে প্রকাশ্যে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে যৌতুক না দেওয়ায় এক নারীকে দুইবার গর্ভপাত করানোর মত ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। শেষে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী নারী ইয়াসমিন আক্তার যৌতুক আইনে মামলাও দায়ের করেন। আর এই মামলা তুলে নিতে অভিযুক্তরা তাকে প্রকাশ্যে মারধর করে।

উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের বালিহাটা গ্রামের এই ঘটনার একটি ভিডিও সম্প্রতি স্থানীয় একটি ফেসবুক গ্রুপে ভাইরাল হয়।

সোমবার (২২ মার্চ) এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ইয়াসমিন আক্তার বাদী হয়ে নিজের জীবিনের নিরাপত্তা কামনা করে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।

গৃহবধূ ইয়াসমিন আক্তার উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের বালিহাটা গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে। গত ১০ মার্চ তাকে প্রকাশ্যে পেটানো হয়। ভিডিওটি ভাইরাল রোববার (২১ মার্চ)।

ভুক্তভোগীর বড় ভাই মাহবুব আলমের ফেসবুক আইডি থেকে ‘হৃদয়ে ঈশ্বরগঞ্জ’ গ্রুপে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। ১২ সেকেন্ডের ভিডিওটি আপলোড করার পাশাপাশি তিনি লিখেন, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে নারী নির্যাতনের নারকীয় ঘটনা ঘটেছে। ঈশ্বরগঞ্জের উচাখিলা ইউনিয়নের বালিহাটা গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। জানা যায় গত ১/১১/২০ ইং ভুক্তভোগী ইয়াসমিন আক্তারকে দশ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও তার পরিবার মারধোর করে গুরুতর জখম করে।

এ ঘটনায় ইয়াসমিন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৮ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে ময়মনসিংহের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ২০০৩(সংশোধনী) ১১ খ ধারায় মামলা করে। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

এরই জেরধরে আসামীগনের হুকুমে নিকট আত্মীয় উক্ত মামলা প্রত্যাহার করার জন্য বাদীকে ও তার পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিন যাবত অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে এমন কি বাদীর পৈতৃক স্থাবর অস্থাবর সম্পতি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে বাদী ও তার পরিবারের এবং উক্ত মামলার স্বাক্ষীদের দীর্ঘদিন যাবত হয়রানি করা হচ্ছে। স্বানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তিদের সহয়তায় হিংস্রতা দিন দিন বেড়েই চলছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন ও তারিখে গত ১০/০৩/২০২১ ইং তারিখে আসামিগনের হুকুমে তাদের নিকট আত্মীয় স্বজনরা মিলে বাদীকে মামলা প্রত্যাহার করতে বলে, বাদী মামলা প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করায় এমন নারকীয় অত্যাচার। ভুক্তভোগী ইয়াসমিন ঘটনার পর ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫ দিন চিকিৎসার পর নিজ বাড়িতে আসহায় ও নিরাপত্তাহীন অবস্থায় আছে যে কোন সময় ভুক্তভোগী ইয়াসমিন আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর অতর্কিত হামলা হতে পারে। এর সুষ্ঠু বিচার কি পাবে ইয়াসমিন???

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে ফুফা আবুল কালামের ছেলে পাবেল মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় ইয়াসমিন আক্তারের। বিয়ের পর থেকে পাবেল যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে আসছেন। এরই মাঝে যৌতুক না দেয়ায় দুইবার গর্ভপাত করিয়েছেন স্বামী পাবেল ও তার পরিবারের লোকজন। গত বছরের ১ নভেম্বর ১০ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য স্বামী ও তার পরিবার ইয়াসমিনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ দিন চিকিৎসা নেন। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে ৮ নভেম্বর বাদী হয়ে ময়মনসিংহের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় মো. পাবেল মিয়াকে ১ মার্চ গ্রেফতার করে কারাগারে পুলিশ।

পাবেল মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর পর তার চাচা মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দেন। এরই জের ধরে গত ১০ মার্চ তিনি মাঠে ছাগল আনতে গেলে চাচা আনোয়ার মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দেয় এবং বলেন, মামলা তুলে না নিলে মারধর করা হবে। তখন ইয়াসমিন আক্তার মামলা তুলে নেবেন না বলতেই চাচাতো ভাই তানভীন আলম, চাচা আনোয়ার হোসেন, চাচাতো বোন তানবিনা আক্তার তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রেখে যান। পরে ইয়াসমিনের ভাই তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে সোমবার (২২ মার্চ) দুপুরে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল আদালতে মামলা করেন গৃহবধূ ইয়াসমিন আক্তার।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) আহমার উজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যেই দোষীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ভিডিওটি দেখতে ক্লিক করুন।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর