নান্দাইলে বেদখল হওয়া সরকারি বিদ্যালয় ১০ দিনেও দখলমুক্ত হয়নি!

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে সারিসারি কলাগাছ ও বাঁশ রোপন করে পিয়ারজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দখল করে রেখেছে জমিদাতা পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় মামলা হলেও গত দশ দিনেও দখলমুক্ত হয়নি বিদ্যালয়টি।

এ অবস্থায় সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ২৫ মার্চ জাতীয় শোক দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস পালনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের আছর উদ্দিনের স্ত্রী পিয়ারজান বেগম ১৯৭৪ সালে পিয়ারজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে ৫১ শতক জমি দান করেন। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হয়। ৫ জন শিক্ষক ও ২৮৯ জন শিক্ষার্থীর ওই বিদ্যালয়টিতে পাশের হার শতভাগ। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘদিন পিয়ারজানের ছেলে বাহাউদ্দিন বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তখন জমাজমি নিয়ে কোন আপত্তি উঠেনি। কিন্তু সরকারি করনের পরপরই জমিদাতার পরিবারের লোকজন বিদ্যালয়ের জমি জোরপূর্বক দখলে নিতে বিভিন্ন অপকৌশল চালিয়ে আসছেন।

গত ২০১৯ সালে স্লিপের টাকায় বিদ্যালয়ে একটি স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার তৈরী করতে গেলে বাধার সম্মক্ষিণ হতে হয়। সর্বশেষ ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সরকারী বরাদ্ধের চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হলেও বাধার মুখে নির্মাণ কাজ শুরু করা যায়নি। এ অবস্থায় গত ১০ দিন পূর্বে বিদ্যালয়টি দখলে নিয়ে চারপাশে সারিসারি বাঁশ ও কলাগাছ রোপন করেছে জমিদাতার ছেলে ও নাতি পুতিরা। এতে বাধা শিক্ষকরা বাধা দিলে তাদের মারধর করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া খাতুন বাদী হয়ে নান্দাইল থানায় মামলা করেন। কিন্তু গাছ রোপন করে দখলে নেওয়ার দশ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো বিদ্যালয়টি দখলমুক্ত করতে পারেনি প্রশাসন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ বলেন, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ এনে থানায় মামলা একটি মামলায় হয়। একজন অভিযুক্তকে গ্রফতার করে আদালতের মাধ্যমে হাজতে পাঠিয়েছি। বাকিরা আদালত থেকে জামিন নিয়েছে। বিদ্যালয় দখলমুক্ত করার বিষয়ে আমি বলে এসেছি। এই বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ সহ জেলা প্রশাসক অবগত আছেন। উনারাই ব্যবস্থা নিবেন।

এই বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক জানান, বিদ্যালয় বেদখলের ঘটনায় প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে নান্দাইল থানায় মামলা করেছেন। এখন বিদ্যালয় দখলমুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মজিবুর রহমান ফয়সাল/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর