অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন তালিকায় স্বচ্ছলদের নাম

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন সংকট দূর করার জন্য ‘বীর নিবাস’ নামে আবাসন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী। ৬৩৫ বর্গফুটের প্রতিটি ঘর নির্মানে ব্যয় ধরা হয় ১৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। কিন্তু পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা কমিটি কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত আবেদনকারীগনের নামের তালিকায় দেখা যায় সচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ভীড়। এদের ভীড়ে এক সময় হারিয়ে যেতে হয় অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা /প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রী/সন্তানদের।

জেলা পর্যায়ে আপীল গ্রহণের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়- তালিকা প্রকাশ থেকে ১৫ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত।আর এ সময় সীমা নোটিশ বোর্ডে টানানো হয।তবে অসচ্ছলদের অভিযোগ, আপীলের সময় সীমা পার হয়ে যাওয়ার পর নোটিশ দৃশ্যমান করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে অসচ্ছলদের পক্ষে ১ ফেব্রুয়ারী ২০২১ খ্রি. তারিখে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ করেন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক- উজ – জামান।মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগটি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের নিকট অগ্রগামী করেন।সেখান থেকে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কাছে পৌছালে তিনি বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনিরা পারভিনকে দায়িত্বভার অর্পণ করেন।১৫ মার্চ থেকেই মঠবাড়িয়ায় সরেজমিনে তদন্ত শুরু করেন তিনি।

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এডিসি মনিরা পারভিন জানান,তদন্ত শেষের পথে।মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুস্থ হলেই তার বক্তব্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তদন্ত প্রতিবেদন অগ্রগামী করা হবে। অসচ্ছলরা সচ্ছলদের তালিকায় প্রতিস্থাপন হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, যথাযথ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিবেন। তবে কিছু বঞ্চিত অসচ্ছলরা এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুফল পেতে পারেন।

মূলত মুজিব বর্ষ (২০২০ খ্রি.) উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাগনের মধ্যে যারা অসচ্ছল তাদের গৃহ নির্মান করে দেওয়ার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন,যাদের ভিটেমাটি নেই,তাদের জেলা প্রশাসক বা ইউএনও র মাধ্যমে জমির ব্যবস্থা করতে হবে।

কিন্তু অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ব্যতিক্রম তথ্য।সরেজমিনে যাওয়া হয় উপজেলা আমড়াগাছিয়া এলাকার ধুপতি মানিকখালী গ্রামে।এ গ্রামে ছোট্ট একটি ঝুপরি ঘরে স্বামী সন্তান নিয়ে থাকেন প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা রত্তন আলীর একমাত্র কন্যা সন্তান হেলেনা বেগম।ঘরের তালিকায় নাম আছে কিনা জানতে চাইলে কেঁদে ফেলেন তিনি।কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ৩ বছর বয়সে মুক্তিযোদ্ধা বাবা মারা যাওয়ার পরেই শুরু হয় ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ।মাথা গোঁজার কোন ঠাই না থাকায় ধর্না দিতে হয় কখনো খালার বাড়ি, কখনো এলাকার কারো বাড়ি আবার কখনো বাজারের তলসেটে। একপর্যায়ে ২০১৫ সালে মায়ের প্রাপ্ত ফারায়েজ জমিতে এলাকা থেকে চেয়ে চেয়ে বাঁশ খুঁটি নিয়ে তৈরি করেন মাথা গোঁজার ঠাঁই।

অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন গৃহের তালিকায় সুপারিশ প্রাপ্ত না হয়ে হতাশ হয়ে পড়েন তিনি।অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত প্রতিবেদনই এখন একমাত্র ভরসা প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধার এই একমাত্র সন্তান হেলেনার।

কেবলমাত্র অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন প্রকল্পের তালিকায় অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগের বাদী সংক্ষুব্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-উজ-জামান জানান,”তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগীরা তাদের ন্যায্য অধিকার ও ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হলে উক্ত অভিযোগ নিয়ে আদালতে রিট আবেদন করা হবে।”

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর