শেরপুরে চাঁদাবাজি মামলায় আটক ৩

বগুড়ার শেরপুরে গাড়ীদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নকল স্বর্ণের বার ব্যবসায়ী প্রতারক শামিমের কাছ থেকে টাকা দাবি করার ঘটনায় রোববার(২১ মার্চ) বিকেলে শেরপুর থানায় শিলু মিয়া(৩০), মোশারফ হোসেন(৪২) ও মামুনুর রশিদের (২৬) বিরুদ্ধে প্রতারকের মা বাদি হয়ে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।

অথচ নকল স্বর্ণের বার ব্যবসায়ী শামিমকে আটক করলেও তার বিরুদ্ধে কোন মামলা না দিয়ে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

জানা যায়, বগুড়ার ধুনট উপজেলার পার নাটাবাড়ি গ্রামের জয়নাল প্রামানিকের ছেলে বাসের হেলপার শামিম হোসেন ২২ ক্যারেটের একটি নকল স্বর্ণের বার নিয়ে প্রতারণা করার জন্য ১৯ মার্চ শুক্রবার রাত পৌনে ১২ টার দিকে শেরপুরের গাড়িদহ ইউনিয়নের গাড়িদহ বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় আসে। গাড়িদহ ইউনিয়নের মহিপুর কলোনী গ্রামের হাফিজার রহমানের ছেলে চাকরীচ্যুত পুলিশ কনস্টেবল শিলু মিয়া স্বর্ণ ব্যবসায়ী শামিমের পরিচয় জানতে চায়।

এতে শামিম অসংলগ্ন কথা বলায় তাকে সন্দেহ করে গাড়িদহ মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত মোমিনের ছেলে মোশারফ হোসেন ও আবু হাসেমের ছেলে মামুনুর রশিদকে খবর দিয়ে ডেকে আনে। পরে রাত আড়াইটার দিকে প্রতারক স্বর্ণ ব্যবসায়ী শামিম ও তার ছোট ভাই লিমনকে কৌশলে শিলুর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। প্রতারকের কাছে টাকা না থাকায় ছোট ভাই লিমন বড় ভাই শামিকে রেখে ২০ মার্চ শনিবার সকালে টাকা নিয়ে আসার জন্য বাড়িতে চলে যায়। পরে পরিবারের লোকজনের সাথে আলোচনা করে শেরপুর থানায় অভিযোগ দিয়ে ওইদিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে টাকা দেয়ার কথা বলে বনমরিচা বটতলা এলাকায় শিলুকে ডেকে নিয়ে আসে। এই সুযোগে থানা পুলিশের এএসআই মিলন ও মামুন তাকে আটক করে।

শিলুর তথ্যমতে গাড়িদহ করতোয়া নদীর ধারে শিমুল গাছের নিচ থেকে মোশারফ ও মামুনুরকে আটক করে এবং শামিম কে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ২১ মার্চ রোববার বিকেলে শামিমের মা চায়না খাতুন বাদি হয়ে শেরপুর থানায় ওই তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। এদিকে নকল স্বর্ণের বার নিয়ে শামিম থানা পুলিশের হাতে আটক হলেও তার বিরুদ্ধে কোন মামলা না দিয়ে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ওই তিন যুবকের পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে নকল স্বর্ণের বার নিয়ে গাড়িদহে এসে প্রতারণার করার সময় শামীমকে স্থানীয়রা আটকে রাখে এলাকার একটি তেল পাম্পের সামনে। চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পন্ন ভাবে মিথ্যা।

এ প্রসঙ্গ নিয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, নকল স্বর্ণের বার নিয়ে শামীম মানুষজনের সাথে প্রতারণা করেছে তার কোন অভিযোগ তিনি পাননি। এছাড়া ওই তিন যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে শামীমের মা চায়না খাতুন।

রাশেদুল হক/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর