আমের গুটিতে ছেয়ে গেছে বাগান, পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা
ফাগুনের শেষে ও চৈত্রের শুরুতে রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘা উপজেলার আম গাছগুলোতে মুকুল ঝরে দেখা মিলেছে সবুজ আমের গুটি।
চলতি মৌসুমে বাগান ও বাড়ির আঙ্গিনায় আম গাছগুলোতে আশানুরূপ আমের গুটি আসা ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন বাগানী ও ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে দুই উপজেলার বিভিন্ন আম বাগান ঘুরে দেখা যায়, মুকুল ঝরে সবুজ গুটিতে ভরে ওঠতে শুরু করেছে আম গাছগুলো। মটরদানা আমের ভরে কিছু কিছু গাছের ডাল মাটিতে নুয়ে পড়েছে। বাগান মালিকরা গুটি আমগুলোকে রোগ ও পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানা গেছে, জেলায় ১৭ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। এরমধ্যে বাঘা ও চারঘাট উপজেলায় ৭০ শতাংশ আম চাষ হয়। বাকি ৩০ শতাংশ আম পুরো জেলায় চাষ হয়। এর মধ্যে এই দুই উপজেলার বেশ কিছু বাগানে পরিচর্যা করতে দেখা গেছে কৃষকদের।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামের শফিকুল ইসলাম মুকুট বলেন, কিছু কিছু গাছে আম আসতে শুরু করেছে। এখন গাছের বাড়তি যত্নের প্রয়োজন। তাই ছোট-বড় আম বাগান পরিচর্যায় সময় ব্যয় করতে হয়। এছাড়াও বাগানের আগাছা পরিষ্কারসহ পোকা দমনে স্প্রে করা হচ্ছে কীটনাশক। এতে পোকা যেমন দূর হবে, তেমনি গাছে দেখা দেবে স্বাস্থ্যকর আমের গুটি। এতে করে ফলন ভালো হবে বলে আশাবাদী তিনি।
চারঘাট ও বাঘা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় বার হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। ফজলি, লখনা, গোপালভোগ, আশ্বিনা, হিমসাগর, দুধসরসহ প্রায় ১৫ রকমের বেশি জাতের আম চাষ করা হয়ে থাকে এই দুই উপজেলায়।
চারঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার লুৎফুন নাহার জানান, সামনের দিনগুলোতে আবহাওয়া ভালো থাকলে এবারও আমের বাম্পার ফলন হবে। এ বিষয়ে চাষিদের বাগান পরিচর্যা ওষুধ স্প্রে করার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। আর চাষিরাও অধিক ফলনের আশায় সে অনুযায়ী কাজ করছেন।
বাঘা উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শফিউল্লাহ সুলতান জানান, আমের গুটির পরিচর্যার ক্ষেত্রে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। গাছে পোকা-মাকড় না থাকলে ও গাছের বৃদ্ধি স্বাভাবিক থাকলে কীটনাশকের ব্যবহারও প্রয়োজন নেই বলে জানান তিনি।
বার্তাবাজার/পি