শেরপুরে দমানো যাচ্ছেনা মোটরসাইকেল চুরি

বগুড়ার শেরপুরে মোটরসাইকেল চুরির হিড়িক পরায় আতঙ্কিত এলাকাবাসী। বিশেষ করে ইউনিয়ন ও পৌরবাসীর রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছে সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোরচক্র। চুরির ঘটনায় শেরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরী বা অভিযোগ দিলেও মোটরসাইকেল উদ্ধার ও চোর চক্রের কোন সদস্যদের আটক করতে পারেনি শেরপুর থানা পুলিশ। প্রশাসনের কোন তৎপরতা না থাকায় কিছুতেই দমানো যাচ্ছে মোটরসাইকেল চুরি।

খোজ নিয়ে জানা যায়, দিনে এবং রাতের বেলায় বাসা বাড়ী থেকে অভিনব কায়দায় মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছে, সম্প্রতি শেরপুর শহরতলী খন্দকার টোলা মাজারের উত্তর পাশ থেকে গত ১৬ মার্চ দুপুরে ১০০ সিসির ডিসকভার, ১ মার্চ শহরের জগন্নাথ পাড়া এলাকা থেকে ১৫০ সিসির চায়না মোটরসাইকেল, খন্দকার পাড়া থেকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ১০০ সিসি ডিসকোভার, ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহ বন্দেগী ইউনিয়নের হামছায়াপুর কাঠালতলা এলাকা থেকে রাতে শরিফুজ্জামানের বাড়ি থেকে ডিসকোভার ও টিভিএস মেট্রো চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি নিয়ে গেলেও অন্যটি রাস্তায় ফেলে দিয়ে যায়।

মির্জাপুর বাজার এলাকা থেকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ১০০ সিসি ডিসকোভার, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাংবাদিক লিমন হাসান দায়িত্ব পালন শেষে খন্দকার টোলায় নিজ বাড়ির বাউন্ডারির মধ্যে ১৫৩ সিসি ইয়ামাহা এফ জেড রাখঅর পর চুরি, খন্দকার টোলা ওসমান উকিলের বাড়ির সামনে থেকে গত ১৯ জানুয়ারি দুপুরে ব্র্যাক কর্মকর্তার ১০০ সিসি ডিসকোভার, ৬ জানুয়ারি বিকালে শহরের টাউন কলোনী এলাকা থেকে পালসার মোটরসাইকেল, একই দিনে সন্ধ্যায় কলেজ রোড এলাকা থেকে ১০০ সিসি ডিসকোভার, খন্দকার টোলা তাকোওয়া মসজিদের সামনে থেকে ১টি, দুবলা গাড়ি থেকে ১টি, টাউন কলোনী থেকে ২টি শেরশাহ মার্কেট থেকে ২ টি সহ প্রায় ৩০টি মোটর সাইকেল চুরি করা হয়েছে। দিনে-দুপুরে উপজেলা জুড়ে চুরির ঘটনা ঘটলেও অজ্ঞাত কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে পুলিশ প্রশাসন।

গত ২ মাসে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ,ব্যবসায়ী ও এনজিও কর্মকর্তাসহ সাধারণ মানুষদের প্রায় ৩০ টির অধিক মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে গেছে এই চোর সিন্ডিকেট। এ সংঘবদ্ধ চোরদের দৌরাত্ম্যে অসহায় হয়ে পড়েছেন মোটরসাইকেলের মালিকরা। মোটরসাইকেল মালিকরা বিভিন্ন যান্ত্রিক প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেও চুরি ঠেকাতে পারছেন না। আতঙ্কে অনেকেই এখন নিজ শোয়ার ঘরে মোটরসাইকেল রেখে এক সাথে ঘুমান। সম্প্রতি এ উপজেলায় দিনে দুপুরে ও গভীর রাতে স্কুল, কলেজসহ বেশ কয়েকটি বাড়ীতে অভিনব কায়দায় গ্রীল ভেঙ্গে দুর্র্ধষ চুরির ঘটনা ঘটালেও শেরপুর থানা পুলিশ আজ পর্যন্ত কোন সুরহা করতে পারেনি। সংঘবদ্ধ চোরচক্রকে চিহ্নিত পূর্বক আটক করে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে পুলিশ কোন মোটর সাইকেল উদ্ধার করতে না পারলেও গাড়িদহ ইউনিয়নের মহিপুর গ্রামের ভুক্তভোগী শাহিন আলম বিভিন্ন এলাকায় সোর্স লাগিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার খাসরাজবাড়ি ইউনিয়নের গুদারবাগ চর থেকে নিজের মোটর সাইকেলটি ঠিকই উদ্ধার করেছেন।

এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলার ট্রাফিক পুলিশের টিআই ইয়াজদানির সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ৩ মাসে মোটর সাইকেলের একটিও মামলা দেয়া হয়নি।

শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় থানায় একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। সংঘবদ্ধ চোর চক্রদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

রাশেদুল হক/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর