চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সাড়ে ১৭ হাজার ইয়াবা নিয়ে ওসি প্রদীপের ঘনিষ্ট সহযোগী দুই ভূয়া সাংবাদিককে আটক করেছে র্যাব-৭। এসময় জব্দ করা হয়েছে পাচার কাজে ব্যবহৃত একটি মোটর বাইক।
রবিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১টার সময় উপজেলা বরুমছড়া রাস্তার মাথা থেকে তাদের আটক করা হয়।
ধৃতরা হলেন- টেকনাফ পৌরসভার খানকার ডেইল এলাকার কাইউম শরীফের ছেলে ও সাংবাদিক ইউনিটির সদস্য, শহীদুল ইসলাম (২৮) এবং পুরাতন পল্লান পাড়ার মো. আমিনের ছেলে কবির আহমদ (৩১)। র্যাব-৭ এর মিডিয়া কর্মকর্তা মো. নূরুল আবছার ‘বার্তা বাজার’ কে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মাদক পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বরুমছড়া রাস্তার মাথা র্যাব সদস্যরা তল্লাশী শুরু করে। এসময় চেক পোস্ট ফাঁকি দিয়ে একটি বাইক দ্রুত পালানো চেষ্টাকালে ধাওয়া করে বাইকসহ দুই পাচার কারীকে আটক করে। এসময় তারা টেকনাফ টিভি ও টেকনাফ প্রতিদিন নামক দুটি ভূয়া পত্রিকার কার্ড প্রদর্শন করে সাংবাদিক পরিচয় দেয়। পরে বাইক তল্লাশী করে লুকানো অবস্থায় ১৭হাজার ৬৪৫পিস ইয়াবা বড়িসহ একটি মোটর বাইক (চট্ট মেট্রো-ল- ১৪-২৯৪০) ও ভূয়া প্রেস কার্ড দুটি জব্দ করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা সাংবাদিকতার নাম ভাঙ্গিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন কায়দায় ইয়াবা পাচার করে আসছিলো বলে স্বীকার করেছে।
আটক দুইজনকে জব্দকৃত মালামালসহ আনোয়ারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন র্যাবের এই কর্মকর্তা।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, আটক শহিদুল ইসলাম টেকনাফ সাংবাদিক ইউনিটির সদস্য। টাকার বিনিময়ে হাতিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) টেকনাফ কমিটির দপ্তর সম্পাদক পদ। এর আগেও বিভিন্ন সময় এই সংগঠনের সদস্যরা ইয়াবাসহ আটক হয়েছে।

নির্ভর যোগ্য সূত্রের দাবী, সাংবাদিক সংঘটনের আড়ালে নাফ টিভি ও টেকনাফ প্রতিদিন নামের কয়েকটি ভূয়া ফেইসবুক মার্কা নিউজ পোর্টালের নাম ভাঙ্গিয়ে ধৃতদের একটি সিন্ডকেট দীর্ঘ বছর ধরে ইয়াবা পাচার করে আসছিলো। নিজেরা মাদককারবারী হয়ে অন্যান্য মাদক কারবারীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি ছাড়াও কিছু সাধারন মানুষের কাছে দাবীকৃত চাঁদা না পেলে এসব ভূয়া পোর্টাল গুলোতে মাদক কারবারি আখ্যা দিয়ে নিউজ প্রকাশের পর অসাধু কিছু পুলিশ লেলিয়ে দিত। এই ভাবে এইসব ভূয়া পোর্টাল ও সাংবাদিক সংঘটনের সদস্যরা বনেছে অঢেল টাকার মালিক। যদিও এদের দৃশ্যত কোন আয়ের উৎস নেই।

টেকনাফ প্রতিদিন নামক ভূয়া নিউজ পোর্টালের দুই কথিত পরিচালকের মধ্যে একজন তালিকাভূক্ত মাদক কারবারী ও অপরজনের বিলাসী জীবনের দৃশমান আয়ের উৎস নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন প্রশ্ন।

র্যাব সূত্র মতে, সিনহা হত্যা মামলার প্রধান আসামী প্রদীপের পৃষ্টপোষকতায় পরিচালিত কথিত নাফ টিভির সম্পাদকের বিরুদ্ধে রয়েছে নাফ টিভি ও ওসি প্রদীপের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির বিস্তর অভিযোগ। এছাড়া নাফ টিভির চেয়ারম্যান সেলিমের আয়ের উৎস নিয়েও স্থানীয় ভাবে রয়েছে ভিন্ন প্রশ্ন।
নাম প্রকাশনা করার শর্তে কক্সবাজারের বেশ ক’জন সাংবাদিকদের দাবী, এসব সাংবাদিক সংঘটন ও ভূয়া নিউজ পোর্টালের সাথে জড়িত প্রত্যেকের ব্যাপারে আইনশৃংখলা বাহিনী অনুসন্ধানে নামলে অবাক করা তথ্য বেড়িয়ে আসবে।