রাজধানীতে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

হঠাৎ করে মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনসাধারণের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতসহ কঠোর ভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে আবারো মাঠে নেমেছে পুলিশ। রোববার (২১ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করেছে পুলিশ।

রাজধানীতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণের পাশাপাশি ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিমানবন্দর রেলস্টেশন, কমলাপুর রেলস্টেশন, সদরঘাট, বংশাল, সচিবালয়, জেলা জজ আদালত এলাকা, লালবাগ, বায়তুল মোকাররম, মিরপুর, শাহ আলী, শাহবাগ, হাতিরঝিল, জোয়ার সাহারা, খিলক্ষেতসহ মোট ১৫টি স্পটে জনবহুল স্থানে ঢাকা জেলা প্রশাসনের ১৫ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে মাস্ক ব্যবহারে উৎসাহিত করার জন্য জনসচেতনতা বাড়ানো ও মাইকিং করা হয়। এছাড়াও, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত ২শ ৩৩টি মামলায় ২শ ৩৩ জনকে মোট ৩৬ হাজার ৩৬০ টাকা অর্থদণ্ড করেছেন।

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শেখ মো. মামুনুর রশীদ (আল মামুন) গণমাধ্যমকে জানান, জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, আপাতত বাধ্য করা নয়, স্বাস্থ্যবিধি মানতে মাঠপর্যায়ে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে পুলিশের পক্ষ থেকে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রবিবার থেকে ‘মাস্ক পরার অভ্যেস, কোভিড মুক্ত বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে দেশব্যাপী বিশেষ উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী শুরু করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ কর্মসূচীর আওতায় মাঠপর্যায়ে জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনুপ্রেরণা ও উদ্বুদ্ধ করা হবে। যাদের মাস্ক থাকবে না তাদের পথরোধ করা হবে। দরিদ্রদের মাস্কও দেবে পুলিশ। সাস্থ্য সচেতনায় সতর্ক করবে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে মাস্ক বিতরণ শুরু হয়েছে। রাস্তায় থাকছে নজরদারি। করোনা মোকাবিলায় ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের নির্দেশে সমপ্রতি রাজারবাগ এলাকার জনসাধারণের মধ্যে চার হাজার মাস্ক বিতরণ করেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স) মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁঞা।

প্রসঙ্গত, গত বছরের মার্চে দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং অঘোষিত লকডাউনের চলাচল সীমিত করতে কাজ করে পুলিশ। প্রথমে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করে পুলিশ বাহিনীর সবচেয়ে বেশি সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়।

বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর