মঠবাড়িয়ার বেহাল সড়কটি সংস্কারে ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার প্রধান সড়কটি বেহাল দশায় রয়েছে এক যুগেরও বেশী সময় ধরে।পৌর শহরের বহেরাতলা থেকে থানা পাড়া সি এ্যন্ড বি পর্যন্ত ১৬০০ মিটার সড়কের সংস্কার কাজ ডিজাইন পরিবর্তন (আরসিসি ঢালাই) এর নামে বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুরু হয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। বাড়তে থাকে জনদুর্ভোগ।
অবশেষে এ বছরের ৩ মার্চ সম্পন্ন হয় বেহাল ওই সড়কটির ওয়ার্ক অর্ডার। শীঘ্রই শুরু হবে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ। বরাদ্দ ১৬ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। পিরোজপুর সড়ক বিভাগের (স ও জ) নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ আজ সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
চড়খালী-পাথরঘাটা আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরনে একনেকে বরাদ্দ হওয়া ৫৮ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের আওতায় ছিল বছরের পর বছর ঝুলে থাকা এ ১৬০০ মিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ।টেন্ডার পায় ওয়েস্টার কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। একনেকে অনুমোদন হওয়া ৩৬ কি.মি. সড়কের অংশে মঠবাড়িয়া পৌর শহরের প্রধান সড়কটিও ছিল। ডিজাইন পরিবর্তনের নামে কাজ বন্ধ রাখায় দুর্ভোগে পড়ে শতাধিক প্রতিষ্ঠান।
গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে মঠবাড়িয়া থানা, টিকিকাটা ইউনিয়ন পরিষদ, বকশির ঘটিচোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেসিক ব্যাংক, ডাক বাংলো, মার্কেইন্টাইল ব্যাংক, কে,এম, লতীফ ইনস্টিটিউশন, ভূমি অফিস, সেটেলমেন্ট অফিস,উপজেলা পরিষদ, মঠবাড়িয়া পৌরসভা, অগ্রণী ব্যাংক, পল্লী বিদ্যুৎ, মঠবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাতেম আলী সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মঠবাড়িয়া সরকারি কলেজ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীরা রাস্তার ধূলায় নতুন নতুন রোগে আক্রান্ত হয়। ক্ষুণ্ণ হয় সরকারের ভাবমূর্তি।
মঠবাড়িয়া থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেহাল অবস্হায় পড়ে থাকা সড়কটির ধূলাবালির কারণে একাধিক অফিসার ফোর্স ডাস্ট এলার্জিসহ নতুন রোগে ভুগছে ।দিন রাত দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ অনেকটা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
উপজেলা পরিষদে সেবা নিতে আসা একাধিক ব্যক্তি জানান, খাবারের দোকানগুলো রাস্তার পাশে থাকায় ধুলায় নোংরা হয়ে যায়।এগুলো খেয়ে আমরা বিভিন্ন পেটের অসুখে আক্রান্ত হই।পরিষদে আসার সময় পরিধেয় পোশাক নষ্ট হয়ে যায়।এছাড়া সর্দি, হাঁচিতে আক্রান্ত হই আমরা।
কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের দেখা যায় কোন রকম স্বস্তি পেতে একটু পানি ছিটাতে। কিন্তু এক যুগেরও বেশী সময় ধরে খোঁড়াখুড়ির পর ফেলে রাখা রাস্তায় পানি ছিটালেও ধুলা বন্ধ হয় না।
স্হানীয় সাংসদ ইতোপূর্বে সড়কটির কাজ ঝুলে থাকায় জনদুর্ভোগ নিরসনে বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন।উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সড়কটির বেহাল দশা নিয়ে বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।সাধারন মানুষের একটিই প্রশ্ন – এটি কি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নাকি কোন দুর্নীতিবাজদের বেহায়াপনা?
এ ব্যাপারে সড়কটির এসও উপ-প্রকৌশলী আলী আকবর জানান,৩ মার্চ এর ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার কনস্ট্রাকশন সড়কটিতে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শুরু করবে।আশা করি,এ বছরের জুন মাস নাগাদ কাজ শেষ করা যাবে।
বার্তাবাজার/এসজে