ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেইল করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করার দায়ে ইফতেখার ভূইয়া রবিন-(২২) এবং ইয়াম হোসেন-(২১) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। শনিবার রাতে কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর থেকে ব্যবসায়ী মোবারক হোসেনকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ইফতেখার ভূইয়া রবিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের বিজেশ্বর গ্রামের স্বপন ভূইয়ার ছেলে এবং ইয়াম হোসেন একই এলাকার কবির হোসেনের ছেলে।
রোববার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন জানান, গত শুক্রবার রাতে আশুগঞ্জ উপজেলার চর-চারতলা গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন-(৪৭) তার ভারতীয় বন্ধু মিন্টু দাস-(৩৫)কে নিয়ে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে আসেন। পরে তাদেরকে গ্রেপ্তারকৃত যুবকরা শহরের কলেজপাড়ার একটি বাসায় নিয়ে যান। ওই বাসায় যাওয়ার পর তাদেরকে ব্ল্যাকমেইল করে বাসায় থাকা সুন্দরী মেয়েদের সাথে আপত্তিকর ছবি উঠিয়ে তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করেন। পরে অপহরণকারীদের সাথে ব্যবসায়ীদের চার লাখ টাকা রফাদফা হয়।
এক পর্যায়ে প্রতারক চক্রটি মোবারক হোসেনকে আটকে রেখে মিন্টু দাসকে টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য ছেড়ে দেয়। মিন্টু দাস ছাড়া পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশের কথামতো মিন্টু দাস শনিবার রাতে শহরের মেড্ডা এলাকা থেকে টাকা নেয়ার জন্য রবিন ও ইয়াম হোসেনকে ফোন দেন। রবিন ও ইয়াম হোসেন টাকা নেয়ার মেড্ডা এলাকায় গেলে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের তথ্য মতো শনিবার গভীর রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অপরাধ) মোঃ রইছ উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকা থেকে মোবারক হোসেনকে উদ্ধার করে।
ওসি লোকমান হোসেন আরো জানান, উদ্ধারকৃত মোবারক হোসেন এ ঘটনায় রোববার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পরে তিনি আদালতে জবানবন্দীও প্রদান করেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ভারতীয় নাগরিকের বিস্তারিত তথ্য কৌশলগত কারনে তিনি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অপরাধ) মোঃ রইছ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই ঘটনার সাথে জড়িত দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মোঃ রাসেল আহমেদ/বার্তা বাজার/শাহরিয়া