অবৈধ খোঁয়াড় মালিকের কাছে আটক ছাগল আনতে গিয়ে খোয়াড় মালিকের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হয়ে অপমান সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে অবশেষে মৃত্যু বরণ করেছেন মাগুরার ষাটোর্ধ বৃদ্ধ মোসলেম শেখ নামের এক কৃষক। কৃষক মোসলেম শেখের বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলার শক্রজিৎপুর ধর্মদাহ গ্রামে।
গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় দশ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে আজ (২০ মার্চ) সকাল পৌনে দশটার দিকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন নিহতের স্ত্রী। মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট হস্থান্তর করা হয়েছে। এদিকে যে ছাগল আনতে গিয়ে লাঞ্চিত হয়ে আত্বহত্যার চেষ্টার পর বৃদ্ধ মোসলেম মৃত্যু বরন করলেও তার ছাগল আটকে রেখেছেন খওড় মালিক কলম।
নিহত কৃষকের স্ত্রী আমেন খাতুন অভিযোগ করেন, ফসলের মাঠে প্রতিবেশী নজরুল শেখের মরিচ ক্ষেতের পাতা খাওয়াই গত ১০ মার্চ দুপুরে দুটি বাচ্চাসহ তাদের পোষা রামছাগল ধরে কালাম শেখের খোঁয়াড়ে দিয়ে আসেন তিনি। খবর পেয়ে তার স্বামী মোসলেম শেখ ছাগলগুলি ছাড়িয়ে আনতে গেলে খোয়াড় মালিক কালাম শেখ তার কাছে এক হাজার টাকা দাবি করেন। তার স্বামী প্রতিবেশীর থেকে প্রথমে ২শত টাকা নিয়ে ছাগল আনতে ব্যার্থ হয়ে ফেরত আসেন। পরে আরো একশত টাকা ধার নিয়ে মোট ৩শ টাকা নিয়ে যান। কিন্তু দাবিকৃত এক হাজার টাকা দিতে না পারায় খোঁয়াড় মালিক তার স্বামীকে ছাগলগুলি ফেরত না দিয়ে গালিগালাজসহ মারধর করে গলাধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। এ-ই লাঞ্চিত হবার অপমান সইতে না পেরে মনের কষ্টে বাড়ি ফিরে বাড়ির পেছনে একটি সড়াই গাছে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আত্বহতার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি ঘটনা টের পেয়ে চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এসে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ওই দিনই তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে গেলে তার অবস্থার অবনতি ঘটায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে আই.সি.ইউ ইউনিটে নিয়ে ভর্তির কথা বলা হয়। কিন্তু আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় আমেনা খাতুন অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে মাগুরায় ফিরে আসেন। পরে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আজ শনিবার সকালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে গত ১৭ই মার্চ মাগুরা সদর থানায় খওড় মালিক কালাম শেখসহ দুই জনকে অভিযুক্ত করে মামলার অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানান। তিনি এর শুষ্ঠ বিচার দাবী করেন।
এ বিষয়ে জানতে খোঁয়াড় মালিক কালাম শেখের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বাড়িতে দুইটি বাচ্চাসহ নিহত মোসলেমের পোষা ছাগলগুলি বাধা অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। গ্রামবাসী জানায় মৃত্যুর ঘটনা জানার পর ছেলেসহ পালিয়ে গা ঢাকা দেয় কালাম। বাড়িতে থাকা কালামের পুত্রবধূ জানান, সেদিন ছাগল নিতে আসলে টাকা না থাকায় ছাগল ফেরত দেয়া হয়নি তবে লাঞ্চিত করার কথা অস্বিকার করেন তিনি। সরকারি অনুমোদন না থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদের লোকজনের সহযোগিতায় খোঁয়াড়ের কার্যক্রম চলছে বলেই জানায় গ্রামবাসী।
এ বিষয়ে স্থানীয় শত্রুজিত পুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সঞ্জিত কুমার বিশ্বাস খওড় পরিচালনায় সহযোগিতার বিষয়ে অস্বীকৃতি জানিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গ্রামে খোঁয়াড় নিয়ে বাদ-বিবাদের ঘটনা হয় বিধায় গত দুই বছর ইজারা দেয়া বন্ধ রয়েছে। অবৈধভাবে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গবাদিপশু আটকে রেখে মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করে যাচ্ছে বলে গ্রামবাসীর অভিযোগ পেয়েছেন। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যাবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিক আল মেহেদী জানান, নিহতের স্ত্রী আমেনা খাতুনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আত্মহত্যার প্ররোচনায় সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
তাছিন জামান/বার্তাবাজার/পি