রাজধানীর ৪২২ হাসপাতাল অগ্নিঝুঁকিতে, ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

আগুন ঝুঁকিতে রয়েছে রাজধানীর প্রায় ৪২২টি হাসপাতাল। সম্প্রতি ফায়ার সার্ভিসের একটি পরিসংখ্যানে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গত ১৭ই মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাতালের নতুন ভবনে করোনা ইউনিটের আইসিইউতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে গত বছরের মে মাসে রাজধানীর বেসরকারি করোনা ডেডিকেটেড ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা হাসপাতালের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করেছেন।

এ ছাড়া ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে সেখানে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনার সময় আইসিইউতে আগুন লাগার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

হাসপাতালগুলোর আইসিইউতে করোনাকালে রোগীর অতিরিক্ত চাপ থাকায় বাড়ছে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি। অধিকাংশ হাসপাতালগুলোতে অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকলেও যন্ত্রপাতি বিকল থাকায় আগুন লাগার ঝুঁঁকি বেড়েই চলছে। ফায়ার সার্ভিসের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে মোট ৯০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর ৪৪২টি হাসপাতালের মধ্যে ৪২২টি হাসপাতালই অগ্নিঝুঁঁকিতে রয়েছে। শতকরা হিসেবে এটা ৯৭.৫ শতাংশ। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে একাধিকবার নোটিশ দেয়া হলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপাতালগুলোর মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় রয়েছে ১৭৩টি। এবং সাধারণ ঝুঁঁকিতে আছে ২৪৯টি হাসপাতাল। যার মধ্যে ঢাকা মেডিকেলসহ আরো প্রায় ২০টি বড় সরকারি হাসপাতাল এই অতি ঝুঁকির তালিকার রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যস্ততম বিশেষ করে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। হাসপাতালে সেনিটাইজার, অক্সিজেন, সিলিন্ডার, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানলা, গ্যাস লাইন থেকে শুরু করে অন্যান্য দাহ্য পদার্থ থকে আগুন লাগার ঝুঁকিটা বেশি।

এক্ষেত্রে বেসরকারি ভালো মানের হাসপাতালগুলো অগ্নিঝুঁকির বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন। তারা নিয়মিত এগুলো ফলোআপ, মহড়া এবং অগ্নিঝুঁকির বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি নিয়ে থাকেন। আমাদের পক্ষ থেকে সার্ভে করে ঝুঁকিপূর্ণ হাসপাতালগুলোকে অগ্নিঝুঁকি কমানোর বিষয়ে পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি নোটিশ দেয়া হচ্ছে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. খলিলুর রহমান বলেন, পিডব্লিউডি এর প্রকৌশল বিভাগ মূলত এ বিষয়টা দেখে থাকেন। সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরপরই আমাদের হাসপাতালের অক্সিজেন, সিলিন্ডার থেকে শুরু করে কোথাও ত্রুটি আছে কি না সেটা খুঁজে বের করে ঠিক করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া হাসপাতালের আইসিইউতে কোনো বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ থাকে সেগুলোকে যেন সুরক্ষিতভাবে রাখা হয় এ বিষয়ে আমরা সচেতন আছি। এগুলো যেহেতু সরাসরি আমাদের কাজ না। তারপরেও নিয়মিত ফলোআপ করছি। ওদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকান্ডের ঘটনার পর কিছু কিছু হাসপাতালে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।-মানবজমিন।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর