অনিয়ন্ত্রিত হতে পারে করোনা, মাস্ক পরিধানের বদলে চলছে পরিহার

ঘরের বাইরে মাস্ক পরিধান করার কথা বলা হলেও বেশিরভাগ মানুষ তা মানছেন না। কিছুদিন আগে সংক্রমণ কমে যাওয়ায় মানুষ একরকম মাস্ক পরিধান করা ছেড়েই দিয়েছিল। এখন সংক্রমণ বাড়তে শুরু করলেও পুরনো অভ্যাস মত মাস্ককে পরিধানের বদলে পরিহারই করছেন মানুষজন।

সরকারের পক্ষ থেকে বহু আগেই গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশসহ প্রচারণা চালানো হলেও কোনো আসছে না তা। এর আগে জেল জরিমানার ঘোষণা দেওয়া হলেও জরিমানা আদায় করা হয়েছে অনেকের কাছ থেকে। সম্প্রতি আবারও শুরু হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। কিন্তু তবুও মানছে না কেউ। যেন লুকোচুরি খেলা হচ্ছে।

শনিবার (২০ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ লোকই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। গণপরিবহনের শ্রমিক ও যাত্রী, হাটবাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, ধর্মীয় উপাসনালয়ে আগত ব্যক্তি, পথচারীদের মধ্যে মাস্ক ব্যবহারে উদাসীনতা দেখা গেছে।

মিরপুরের শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে একটি লোকাল বাসে ডেকে ডেকে যাত্রী তুলছিলেন হেল্পার হাছান আহমেদ। তার মুখে মাস্ক নেই। বাসে উঠতে যাওয়া যাত্রীদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক নেই। অনেকে আবার গানে লাগিয়ে থুতুনির নীচে ঝুলিয়ে রেখেছেন।

এ ব্যাপারে হাছান বলেন, দিনে ১২-১৩ ঘন্টা গাড়িতে থাকি। সব সময় মাস্ক লাগিয়ে রাখা যায় না। খুব কষ্ট হয়। তবে মাস্ক সব সময় সাথেই থাকে।

মিরপুর বাঙলা কলেজের বিপরীত পাশে কয়েকটি চায়ের দোকান রয়েছে। সেখানে সন্ধ্যর দিকে গিয়ে দেখা যায় বেশ কিছু তরুণ চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছেন। তাঁদের কারও মুখেই মাস্ক নেই। আর দুজনের মাস্ক থুতনিতে নামানো। কথা বলে জানা গেল, তাঁরা সবাই বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। প্রায় সবার সঙ্গেই মাস্ক আছে, তবে সেটি সব সময় ব্যবহার করেন না।

হকার, শ্রমিক, রিকশা, ভ্যানচালকসহ সব পথচারী, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় কর্মরত ব্যক্তিদের মাস্ক পরা বাধ্যতমূলক। কিন্তু শ্যামলী এলাকায় দেখা যায়, একটি রিকশার যাত্রী ও চালক কারও মুখেই মাস্ক নেই। রিকশার হাতলে চালকের মাস্ক ঝুলছে।

আরেক রিকশাচালক মো. ইয়াকুব বলেন, ‘রিকশা চালাতে বেশি বেশি শ্বাস টানতে হয়। মাস্ক পরলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। গরমও বেশি লাগে।’

মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আহমেদুল কবীর বলেন, মানুষের মাঝে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের জন্ম হয়েছে। তাদের ধারণা মাস্ক পরিধান না করলে করোনা হবে না। এই বিষয়টাই আমাদের দেশে করোনা পরিস্থিতিকে অবনতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর