আমার ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, আমি এর ন্যায্য বিচার চাই

কুড়িগ্রামের কলেজ শিক্ষক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আতাউর রহমান মিন্টুর ওপর নৃশংস হামলার ঘটনার সুষ্ঠ বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার।

শনিবার (২০ মার্চ) দুপুর দেড়টায় আহত আতাউর রহমান মিন্টুর নিজ বাসভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তার পিতা মোঃ আলতাফ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আমি এখানকার স্থানীয় বাসিন্দা নই,আমার এখানকার লোকজনের সাথে পূর্বে কোন ধরণের রেষারেষি ছিলো না, আমার ছেলে একজন কলেজ শিক্ষক, নিরীহভাবে সন্ত্রাসীরা আমার ছেলের উপর হামলা করে তাকে হত্যার চেষ্টা করেছে,আমি এর ন্যায্য বিচার চাই।”

গত ১৬ মার্চ দুপুরে জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের পালপাড়া এলাকায় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মিন্টু। এতে তার ডান হাতের কবজি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অপর হাত ও দুই পা গুরুতর জখম হয়। বর্তমানে মিন্টু ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা মেহেদী হাসান বাঁধনসহ ছয়জন জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। পরে বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) মিন্টুর বাবা আলতাফ হোসেন বাদী হয়ে রাজারহাট থানায় বাঁধনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। তবে গত চার দিনেও কোনও আসামি গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আতাউর রহমান মিন্টু জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলীর আপন ভাগিনা।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে আহত মিন্টুর বাবা আরো বলেন, আমার ছেলে পূর্বে রাজনীতি করলেও বর্তমানে সে শিক্ষকতা পেশায় জড়িত,ঘটনার কয়েবদিন আগে সন্ত্রাসীরা তার কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে,চাঁদা না দেয়ার কারণে তারা বাড়িতে হামলা করে এবং তার উপর হামলা করে। আমার ছেলে ১১ জনকে চিনতে পেরেছে তাই থানায় ১১ জনের নামে যে মামলা করেছি, আরো কয়েকজন অজ্ঞাত আছে ।এখন তাদের নাম বলতে পারছি না,আমি চাই দোষীরা দ্রুত আটক হউক।”

সংবাদ সম্মেলনে মিন্টুর মা মোছাঃ ফাতেমা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন,আমার ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃতদের গ্রেফতার করে বিচারের দাবি জানাই।”

হামলাকারীদের কঠোর বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান তিনি।

মিন্টুর স্ত্রী মোছাঃ নওরিন আক্তার কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন,” আমার স্বামী একজন সৎ কলেজ শিক্ষক,বিয়ে হবার পর থেকে কারো সাথে কোন বিবাদ ছিলো না। আমি ওই হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে প্রশাসনকে অনুরোধ করছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, আহত মিন্টুর ভাই সাজু সরকার,রাজু সরকার,চাচা আব্দুল আওয়াল সরকার,তার ৫ বছরের কন্যা আয়েশাতুন হুসরা মুন প্রমুখ।

সুজন মোহন্ত/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর