ইউপি চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বৃদ্ধ আকমল শেখ হত্যাকাণ্ডের দায়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ এজাহারনামীয় ১৭ জন ও অজ্ঞাত আরো ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টায় নিহতের ছেলে মো. ইব্রাহীম শেখ বাদি হয়ে বোয়ালমারী থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলা নং-১১।
শনিবার (২০ মার্চ) দুপুরে বোয়ালমারী থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নুরুল আলম গণমাধ্যম কর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আসামীরা হলো- চতুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক ও বোয়ালমারী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি শরীফ মো. সেলিমুজ্জামান লিটু, চতুল ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক জামাল মাতুব্বর, সবুজ মাতুব্বর, নুরু মাতুব্বর, সাহিদুল মাতুব্বর প্রমুখ।
জানা যায়, উপজেলার চতুল ইউনিয়নের পোয়াইল গ্রামে গত বুধবার (১৭ মার্চ) রাতে বৃদ্ধ আকমল শেখ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠান পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখে। পরে তাকে আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে মামলার আসামী ও চতুল ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ মো. সেলিমুজ্জামান লিটু বলেন, ‘সামনে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার প্রতিপক্ষের লোকেরা আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। নিহতের স্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে বলেছিল কে বা কারা খুন করেছে জানি না। কিন্তু এখন রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আমাকে আসামি করা হয়েছে।’
উপজেলা আ’লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, কিছু প্রভাবশালী নেতারা উপজেলা যুবলীগ নেতা ও চতুল ইউপির জনপ্রিয় চেয়ারম্যান শরীফ সেলিমুজ্জামান লিটুকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে হত্যা মামলার আসামি করেছে। সঠিক তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে আসল হত্যাকারীদের নাম। লিটু শরীফকে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর তিব্রপ্রতিবাদ ও নিন্দা জানায়।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, ‘এটা আসলে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও শেখর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইস্রাফিল মোল্যা বলেন, ‘আমার মনে হয় না যে সে (লিটু শরীফ) এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে। ঘটনার স্থান থেকে তার বাড়ি অনেক দূরে। সে গ্রাম্য রাজনীতির শিকার। তাকে আসামি করা ঠিক হয়নি।’
উপজেলা আ’লীগের কোষাদক্ষ ও ঘোষপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম ফারুক হোসেন বলেন, ‘উপজেলা যুবলীগ নেতা ও চতুল ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ সেলিমুজ্জামান লিটুকে রাজনৈতিক প্রতি হিংসায় হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। কিছু লোক তাদের ফায়দা লুটার জন্য এই হত্যা মামলায় আসামি করেছে লিটুকে। লিটুকে আসামি করায় রাজনৈতি মহল ও সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।’
উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ময়না ইউপি চেয়ারম্যান নাসির মো. সেলিম বলেন, ‘চেয়ারম্যান হিসেবে শরীফ সেলিমুজ্জামান লিটু খুবই ভালো। লিটুকে মিথ্যা হত্যা মামলায় ফাঁসানো ঠিক হয়নি। আমরা চেয়ারম্যানরা ওপর মহল পর্যন্ত যাব লিটুকে মিথ্যা আসামি করা নিয়ে। একজন জনপ্রতিনিধিকে মিথ্যা ভাবে হত্যা মামলায় ফাঁসানো মেনে নেব না।’
দাদাপুর ইউনিয়ন আ’লীগের দপ্তর সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘যে এলাকায় ঘটনা ঘটেছে সেখান থেকে লিটু শরীফের বাড়ি ১০ কিলোমিটার দূরে। লিটু শরীফকে রাজনৈতিক ভাবে এই হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। সঠিক তদন্ত করলে লিটু শরীফ নির্দোষ হবে। তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার জন্য নিন্দা জানায়।’
সাতৈর ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাতৈর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মজিবর রহমান মোল্যা বলেন, ‘শরীফ সেলিমুজ্জামান লিটুকে হত্যা মামলায় মিথ্যা আসামি করায় আমরা নিন্দা, প্রতিবাদ জানায় এবং এই মামলার সঠিক তদন্ত চায়।’
পরমেশ্বরদী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আলম মিনা মুকুল বলেন, ‘এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে শরীফ সেলিমুজ্জামান লিটু জড়িত না। স্থানীয় অপরাজনৈতিক কারণে লিটু শরীফকে আসামি করা হয়েছে। লিটুকে আসামি করায় আমরা তীব্র নিন্দা জানায়।’
এ ব্যাপারে বোয়ালমারী থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, ‘বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা মামলা নিয়েছি। আমরা তদন্ত করে দেখব যাদের নাম দিয়েছে তারা এ ঘটনার সাথে প্রকৃত জড়িত কি-না। ঘটনার সাথে প্রকৃত যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
মিয়া রাকিবুল/বার্তাবাজার/পি