শেরপুরে ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় শিক্ষক আটক
বগুড়ার শেরপুরের মির্জাপুর বাজারে হেফজখানা মাদ্রাসার ছাত্র জাহিদ হাসানকে মারধর করে গুরুতর আহত করার ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় শেরপুর থানায় প্রধান শিক্ষক আল আমিনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর বাজার এলাকায় বেশ কয়েক বছর ধরে একটি হেফজখানা দিয়ে আশেপাশের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করিয়ে আসছে। এরই একপর্ষায় গত শুক্রবার সকালে ছাত্ররা লেখাপড়া শেষ করে জাহিদ হাসান মাঠের ভেতরে সহপাটিদের সাথে খেলাধুলা করছিল। খেলাধুলার সময এক ছাত্রের কপাল ইটের খোয়া লেগে সামান্য জখম হয়ে যায়। এতে প্রধান শিক্ষক আল আমিন ক্ষিপ্ত হয়ে জাহিদ হাসানকে অফিসের ভিতরে নিয়ে গিয়ে লাথি মেরে মেঝেতে ফেলে লাঠি দিয়ে বেধরোক মারধর করতে থাকে।
এতে ওই ছাত্রের বাম হাত, পেটের ডান পাশে, কোমর, পা লাঠির আঘাতে জখম হয়ে যায়। ছাত্র জাহিদ হাসান আহত হলে বাড়িতে যাইতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আল আমীন তাকে ঘরের ভিতরে বন্দী করে রাখে। পরে সবাই জুমার নামাজ পড়তে গেলে সে কৌশলে পালিয়ে বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি বাবা ও মাকে জানায়।
পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় ছাত্রের পিতা ওবাইদুল বাদি হয়ে শেরপুর থানায় ওই প্রধান শিক্ষক আল আমীনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে ছাত্র জাহিদ হাসান জানান, তাকে লাথি দিয়ে ঘরের ভেতর মেঝেতে ফেলে দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। পা ধরে ক্ষমা চাওয়ার পরেও আমাকে মারতে থাকে। পরে ঘরের ভিতরে বন্দী করে রাখে এবং সকালের খাবার খেতে দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আল আমিন জানান, ছাত্রকে আমি শাসন করেছি এতে থানা পুলিশের কোন প্রশ্নই আসেনা।
এ ব্যাপারে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শহীদুল ইসলাম জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে দু’পক্ষকে ডাকা হয়েছে। বিষয়টি তেমন গুরুত্বর না।
রাশেদুল হক/বার্তাবাজার/পি