ধুলায় বিপর্যস্ত বাংলাবান্ধা এলাকাবাসীর জনজীবন

তেঁতুলিয়া বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর এলাকায় পাথর ক্রাশিং মেশিনের সৃষ্ট ধুলাবালিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলেও তাতে নেই কোন ধরনের শ্রমিক ও মালিক কতৃপক্ষের সচেতনতা। এতে প্রতিনিয়ত প্রাণঘাতী ব্যাধি সিলিকোসিস ঝুঁকিতে পড়েছেন হাজারো শ্রমিকসহ স্থানীয়রা।

সর্ব উত্তরের প্রান্তিক জেলা পঞ্চগড় পাথরের রাজ্য হিসেবে বেশ পরিচিত। তেঁতুলিয়া বাংলাবান্ধা পাথর কেন্দ্রিক এলাকা এবং বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন ২০০/৩০০ শত পাথর বোঝাই ট্রাক প্রবেশ করে বাংলাদেশে। ভারতের যে সমস্ত পাথর আসে বাংলাদেশে তার বেশি ভাগই ভূটান, ভারত, নেপাল, থেকে আসা। বাংলাবান্ধা আমদানিকৃত পাথরের চাহিদা ও পুরো দেশ জুড়ে রয়েছে।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর এলাকায় এশিয়ান হাইওয়ের দুই পাশ ধারে গড়ে উঠেছে শতাধিক পাথরের সাইট। এবং রয়েছে অসংখ্য ক্রাশিং মেশিন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একযোগে ক্রাশিং মেশিন দ্বারা পাথর ভাঙ্গানো হয় ওই এলাকায়। শুকনো পাথর ক্রাশিং এ সৃষ্ট ধুলাবালিতে দিনের আলোতেই অন্ধকার পুরো বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর এলাকা। প্রতিটি সাইটে পানির ব্যবস্থা করে, মেশিনে পাথর দেয়ার আগেই পাথরের পানি দিয়ে স্প্রে করলে ধুলা সৃষ্টি হবে না এমন ধারনা সংশ্লিষ্টদের।

শ্রমিকরা ধুলার মধ্যে ও মুখে মাস্ক না লাগিয়ে কাজ করতে দেখা যায়। পাথর সাইটে কাজ করা মালিক শ্রমিক কেউ স্বাস্থ্য সচেতন না হওয়ায় প্রাণঘাতী ব্যাধি সিলিকোসিসসহ ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে হাজারো শ্রমিকসহ স্থানীয়রা। এভাবে ধুলাবালিতে প্রতিটি সাইটে কাজ চললে বড় ধরনের রোগবালাই হবে,বলেছেন চিকিৎসকরা।পাথর শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে তেঁতুলিয়া উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এমন অনেকেই আছেন যাদের জীবিকার পুরোটাই পাথরের উপর নির্ভরশীল।

কিন্তু পাথর উত্তোলন ও ভাঙ্গার জন্য সুষ্ঠ পরিবেশ ও পরিকল্পনা না থাকায়, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে পাথর শ্রকিকদের বিরাট একটা অংশ। সরেজমিনে বাংলাবান্ধা এলাকায় ঘুরে দেখা যায় প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত পাথর ভাঙ্গা মেশিনের উচ্চ শব্দে আর ধুলাবালির মধ্যে কাজ করতে হয় শ্রমিকদের। শ্রমিকদের মধ্যে অনেকেই স্বাসকষ্ট,সর্দিজ¦র সহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত।

মালিকদের পক্ষ থেকে কোন ধরনের সচেতনতামূলক ব্যবস্থা নেয়নি। উপজেলা প্রশাসন কিংবা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন মাস্ক বিতরণ করলেও শ্রমিকরা তা ব্যবহার করে না। ধুলাবালি নিরসনে প্রশাসনিক কোন উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ চোখে পড়ার মত নয়।

বাংলাবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান কুদরত ই খুদা মিলন বলেন,নিয়মিত রাস্তায় পানি দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, আমরা শ্রমিকদের মাস্ক ব্যবহার করতে ও স্বাস্থ্য সচেতন করার জন্য চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি। ধুলাবালির নিয়ন্ত্রণে সময়োপযোগী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর