বাল্যবিয়ে বন্ধ করে অনুষ্ঠানের খাবার এতিমখানায় দিলেন ইউএনও
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ৯ম ও ১০ শ্রেণির দুই ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। পরে বিয়ে দু’টোতে আগত অতিথিদের জন্য রান্না করা খাবার স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার নয়ানগর ও বাউশিয়া গ্রামে এ দু’টো ঘটনা ঘটে। ১০ শ্রেণির ছাত্রী পরিবারকে বাল্যবিয়ে দেওয়ার অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৯ম শ্রণিতে পড়ুয়া মেয়ের পরিবারকে একই অপরাধে প্রাপ্ত বয়সের আগে বিয়ে না দেওয়ার মর্মে মুচলেকা নেয়া হয়।
জানা যায়, উপজেলার পুরাতন বাউশিয়া গ্রামের ৯ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মেয়ের সাথে পাশের গ্রামের এক ছেলের বিয়ের দিন ধার্য্য হয়। একইসাথে নয়ানগর গ্রামের ১০ শ্রেণির এক ছাত্রী সাথে করিমশাহ গ্রামের এক ছেলের বিয়ের দিন ঠিক করে উভয়ের পরিবার। পরে খবর পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বিয়ে দু’টো বন্ধ করেন
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী জানান, নয়ানগর গ্রামে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ের খবরটি পাই স্থানীয় এক সাংবাদিকের মাধ্যমে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনে বিয়ে আয়োজনের উদ্যোগ নেয়ায় ছাত্রীর বাড়ির লোকদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া আমাদের প্রতি ইউনিয়নে কিশোর-কিশোর ক্লাব আছে। দুপুরে পুরাতন বাউশিয়া এলাকার সে ক্লাবের সদস্যরা আমাকে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ের বিষয়টি অবহিত করে। সে ঘটনায় স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ওই ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, বিয়ে বন্ধ করা পর্যন্ত দুটি আয়োজনেই ছেলের পক্ষের লোকজন উপস্থিত হয়নি। আয়োজনের খাবার স্থানীয় এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়েছে।
বার্তাবাজার/এসজে